নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

শেষবার মাকে বলেছিলেন, ‘আমি আসতেছি’

শেষবার মাকে বলেছিলেন, ‘আমি আসতেছি’

মা, তুমি ভাত বাড়ো, আমি আসতেছি’—এটাই ছিল ছেলের সঙ্গে শেষ কথা। এরপর আর জীবিত ফিরে আসেনি শ্রাবণ।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শ্রাবণ গাজীকে স্মরণ করছিলেন তার মা শাহজাহান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভার নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শ্রাবণ গাজী। এক বছর পরও সেই দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেননি তার বাবা মান্নান গাজী ও মা শাহজাহান। সাভারের ডেইরি ফার্ম এলাকার বাসায় বসে তারা ছেলের শেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন।

শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী জানান, দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে ছিলেন শ্রাবণ। ২০২২ সালে সাভার ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করার পর তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন। পরে মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রথম সেমিস্টার শেষে দেশে ফিরে জুলাইয়ের আন্দোলনে যোগ দেন।

তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতেন শ্রাবণ। নিজের উপার্জনের টাকা পরিবারের জন্য পাঠাতে চাইলেও বাবা হিসেবে তিনি তা নিতে রাজি হননি।

শ্রাবণের মা শাহজাহান জানান, ৫ আগস্ট সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছেলে বলেছিল, “মা, আমি যুদ্ধে যাইতেছি।” তখন তিনি ছেলেকে না যেতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শ্রাবণ জানায়, সে ডেইরি ফার্ম এলাকার মধ্যেই থাকবে। পরে তাকে যেতে দেন।

দুপুরে ছেলের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয় শাহজাহানের। তিনি বলেন, ফোনের ওপাশে দৌড়ানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি ছেলেকে বাসায় ফিরে খাবার খেতে বলেন। জবাবে শ্রাবণ বলেছিল, “মা, তুমি ভাত বাড়ো, আমি আসতেছি।” সেটিই ছিল মা-ছেলের শেষ কথা।

এর কিছুক্ষণ পর শ্রাবণের এক বন্ধু ফোন করে জানায়, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল হাত বা পায়ে গুলি লেগেছে। পরে জানতে পারেন, মাথায় গুলি লেগেছে। দ্রুত গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ছুটে গেলেও সেখানে গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পান বাবা।

পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সাভার ডেইরি ফার্ম এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শাহজাহান বলেন, তার ছেলেকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নিজের মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান বলেও জানান এই শোকাহত মা।

বিষয় : শেষবার মাকে বলেছিলেন, ‘আমি আসতেছি’

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শেষবার মাকে বলেছিলেন, ‘আমি আসতেছি’

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মা, তুমি ভাত বাড়ো, আমি আসতেছি’—এটাই ছিল ছেলের সঙ্গে শেষ কথা। এরপর আর জীবিত ফিরে আসেনি শ্রাবণ।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শ্রাবণ গাজীকে স্মরণ করছিলেন তার মা শাহজাহান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভার নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শ্রাবণ গাজী। এক বছর পরও সেই দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেননি তার বাবা মান্নান গাজী ও মা শাহজাহান। সাভারের ডেইরি ফার্ম এলাকার বাসায় বসে তারা ছেলের শেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন।

শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী জানান, দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে ছিলেন শ্রাবণ। ২০২২ সালে সাভার ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করার পর তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন। পরে মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রথম সেমিস্টার শেষে দেশে ফিরে জুলাইয়ের আন্দোলনে যোগ দেন।

তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতেন শ্রাবণ। নিজের উপার্জনের টাকা পরিবারের জন্য পাঠাতে চাইলেও বাবা হিসেবে তিনি তা নিতে রাজি হননি।

শ্রাবণের মা শাহজাহান জানান, ৫ আগস্ট সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছেলে বলেছিল, “মা, আমি যুদ্ধে যাইতেছি।” তখন তিনি ছেলেকে না যেতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শ্রাবণ জানায়, সে ডেইরি ফার্ম এলাকার মধ্যেই থাকবে। পরে তাকে যেতে দেন।

দুপুরে ছেলের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয় শাহজাহানের। তিনি বলেন, ফোনের ওপাশে দৌড়ানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি ছেলেকে বাসায় ফিরে খাবার খেতে বলেন। জবাবে শ্রাবণ বলেছিল, “মা, তুমি ভাত বাড়ো, আমি আসতেছি।” সেটিই ছিল মা-ছেলের শেষ কথা।

এর কিছুক্ষণ পর শ্রাবণের এক বন্ধু ফোন করে জানায়, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল হাত বা পায়ে গুলি লেগেছে। পরে জানতে পারেন, মাথায় গুলি লেগেছে। দ্রুত গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ছুটে গেলেও সেখানে গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পান বাবা।

পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সাভার ডেইরি ফার্ম এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শাহজাহান বলেন, তার ছেলেকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নিজের মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান বলেও জানান এই শোকাহত মা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত