নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৭ দিনেই আক্রান্ত ৬৩

ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৭ দিনেই আক্রান্ত ৬৩

ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনেই জেলায় নতুন করে ৬৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। যেখানে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১০১ জনের। অর্থাৎ, বছরের প্রথম সাত মাসে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর প্রায় ৬২ শতাংশই শনাক্ত হয়েছেন আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় পাঁচজন, সোনাগাজীতে একজন এবং ছাগলনাইয়ায় একজন রয়েছেন।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ফেনীতে মোট ৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে আরও ৬৩ জন শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং সোনাগাজীতে একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফেনী সদর। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৯৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া দাগনভূঞায় ২৯ জন, সোনাগাজীতে ১৯ জন, ছাগলনাইয়ায় ১০ জন, পরশুরামে আটজন এবং ফুলগাজীতে পাঁচজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আগস্টের মাত্র ১৭ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ জন। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায়ও চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্তের হার বেড়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে ফেনীতে ২৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। সেখানে চলতি বছরের জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৭২ জন। আর আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ জন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, সম্প্রতি এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে এবং সবাইকে সচেতন হতে হবে। জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়লেও পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে জেলায় ৫০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।

বিষয় : ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৭ দিনেই আক্রান্ত ৬৩

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৭ দিনেই আক্রান্ত ৬৩

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনেই জেলায় নতুন করে ৬৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। যেখানে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১০১ জনের। অর্থাৎ, বছরের প্রথম সাত মাসে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর প্রায় ৬২ শতাংশই শনাক্ত হয়েছেন আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় পাঁচজন, সোনাগাজীতে একজন এবং ছাগলনাইয়ায় একজন রয়েছেন।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ফেনীতে মোট ৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে আরও ৬৩ জন শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং সোনাগাজীতে একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফেনী সদর। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৯৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া দাগনভূঞায় ২৯ জন, সোনাগাজীতে ১৯ জন, ছাগলনাইয়ায় ১০ জন, পরশুরামে আটজন এবং ফুলগাজীতে পাঁচজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আগস্টের মাত্র ১৭ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ জন। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায়ও চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্তের হার বেড়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে ফেনীতে ২৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। সেখানে চলতি বছরের জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৭২ জন। আর আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ জন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, সম্প্রতি এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে এবং সবাইকে সচেতন হতে হবে। জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়লেও পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে জেলায় ৫০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত