নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে প্রবেশ, ৩৮ মামলায় আটক ৪৪

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে প্রবেশ, ৩৮ মামলায় আটক ৪৪

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের সম্পদ আহরণ ও ইকোট্যুরিজম বন্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও পর্যটকদের বনে প্রবেশের সুযোগ নেই। এরপরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে ঢুকছেন অনেকে। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আটকও হচ্ছেন জেলেরা।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশ এবং মাছ-কাঁকড়া আহরণের ঘটনায় ৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৪ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৮টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঝিনুক পাচারের একটি ঘটনায় একটি পিকআপ জব্দের পাশাপাশি প্রায় ৭৭ বস্তা ঝিনুক উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ২৭৯ কেজি কাঁকড়াও জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন জানান, জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবন থেকে সব ধরনের সম্পদ আহরণ এবং ইকোট্যুরিজম বন্ধ থাকে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়ি থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে বিশাল সুন্দরবনে অসংখ্য খাল থাকায় সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন বলে জানান তিনি। একদিকে টহল চললে অন্যদিকে লোকজন বনে ঢুকে পড়ে। এর পাশাপাশি বন বিভাগে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলের জেলেদের জীবিকায় সংকট তৈরি হয়েছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, জীবিকার তাগিদে কিছু জেলে ও বাওয়ালি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে প্রবেশ করেন। পরিবারের অভাব-অনটনের সময় অনেকের পক্ষে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বলেও জানান তিনি। তাদের কারণে সাধারণ জেলে-বাওয়ালিরাও ভোগান্তিতে পড়েন। এ ধরনের অসাধু জেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

গাবুরা ইউনিয়নের জেলে মিজানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে অভাবের মধ্যে দিন কাটছে।

আরেক জেলে আতিকুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তাদের জীবিকা চলে। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন তারা বনে যেতে পারছেন না। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার বনে যাবেন। তবে বনে গেলে জলদস্যুদের আতঙ্কেও থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয় এক জেলে অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ার সুযোগে দস্যুদের লোকজন বনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং হরিণ ও বাঘ শিকার করে। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

বন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, জেলে ও বাওয়ালিদের কাছে জলদস্যুদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে বন বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। তথ্য না পেলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ রেখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ৩৮টি মামলা, ৪৪ জন আটক এবং ৩৮টি নৌকা জব্দের ঘটনা ঘটেছে।

বন বিভাগের দাবি, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। অন্যদিকে বিশাল বনাঞ্চল, অসংখ্য খাল ও জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সুন্দরবনের প্রবেশপথে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকার সংকট ও জলদস্যুদের তৎপরতা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

বিষয় : নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে প্রবেশ, ৩৮ মামলায় আটক ৪৪

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে প্রবেশ, ৩৮ মামলায় আটক ৪৪

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের সম্পদ আহরণ ও ইকোট্যুরিজম বন্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও পর্যটকদের বনে প্রবেশের সুযোগ নেই। এরপরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে ঢুকছেন অনেকে। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আটকও হচ্ছেন জেলেরা।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশ এবং মাছ-কাঁকড়া আহরণের ঘটনায় ৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৪ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৮টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঝিনুক পাচারের একটি ঘটনায় একটি পিকআপ জব্দের পাশাপাশি প্রায় ৭৭ বস্তা ঝিনুক উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ২৭৯ কেজি কাঁকড়াও জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দিন জানান, জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবন থেকে সব ধরনের সম্পদ আহরণ এবং ইকোট্যুরিজম বন্ধ থাকে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়ি থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে বিশাল সুন্দরবনে অসংখ্য খাল থাকায় সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন বলে জানান তিনি। একদিকে টহল চললে অন্যদিকে লোকজন বনে ঢুকে পড়ে। এর পাশাপাশি বন বিভাগে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলের জেলেদের জীবিকায় সংকট তৈরি হয়েছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী এলাকার জেলে মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, জীবিকার তাগিদে কিছু জেলে ও বাওয়ালি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে প্রবেশ করেন। পরিবারের অভাব-অনটনের সময় অনেকের পক্ষে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বলেও জানান তিনি। তাদের কারণে সাধারণ জেলে-বাওয়ালিরাও ভোগান্তিতে পড়েন। এ ধরনের অসাধু জেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

গাবুরা ইউনিয়নের জেলে মিজানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে অভাবের মধ্যে দিন কাটছে।

আরেক জেলে আতিকুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তাদের জীবিকা চলে। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন তারা বনে যেতে পারছেন না। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার বনে যাবেন। তবে বনে গেলে জলদস্যুদের আতঙ্কেও থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয় এক জেলে অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ার সুযোগে দস্যুদের লোকজন বনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং হরিণ ও বাঘ শিকার করে। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

বন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, জেলে ও বাওয়ালিদের কাছে জলদস্যুদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে বন বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। তথ্য না পেলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ রেখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ৩৮টি মামলা, ৪৪ জন আটক এবং ৩৮টি নৌকা জব্দের ঘটনা ঘটেছে।

বন বিভাগের দাবি, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। অন্যদিকে বিশাল বনাঞ্চল, অসংখ্য খাল ও জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সুন্দরবনের প্রবেশপথে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকার সংকট ও জলদস্যুদের তৎপরতা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত