নজর বিডি

চীনা পণ্যে ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক: বাংলাদেশের জন্য 'গোল্ডেন চ্যান্স'?

চীনা পণ্যে ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক: বাংলাদেশের জন্য 'গোল্ডেন চ্যান্স'?
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে উথান হতে পারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন মোড় নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হুমকির মুখে। অন্যদিকে, এতে নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলছে বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগী দেশের জন্য। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা জবাবে চীনও ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের অবস্থান দুর্বল হলে, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ ও বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা।  

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকবে। তাতে স্বল্প মেয়াদে পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য সোনালি সময় আসবে।

এম এ রাজ্জাক, চেয়ারম্যান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট

 

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে

বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ শুল্কের ফলে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে আদেশ সরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। এরই মধ্যে কিছু মার্কিন ব্র্যান্ড বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধানে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্পের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার আশ্বাসও পেয়েছে। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-মেইল পাচ্ছি। তারা চীন থেকে অর্ডার সরিয়ে নিতে চায়। কারণ অতিরিক্ত শুল্কের কারণে চীন থেকে পণ্য আনায় লাভ থাকছে না।’

বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, তবে বাংলাদেশ হতে পারে বিজয়ী

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) আশঙ্কা করছে, এই বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৩ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে এই সংকটে সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। র‌্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘এই উত্তেজনা মধ্যমেয়াদে আমাদের জন্য সোনালি সময় হয়ে উঠতে পারে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করবে নীতি সহায়তা, অবকাঠামো ও দক্ষতার ওপর।’

কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ যদি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়, তবে প্রয়োজন হবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত খাতে মনোযোগ। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু, ইলেকট্রনিকস, উচ্চমূল্যের পোশাক, জুতা ও খেলনা খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির বলেন, ‘চীনের উচ্চমূল্যের অর্ডারগুলো বাংলাদেশে আসতে পারে। আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে, বিশেষায়িত খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য কোথায় দাঁড়িয়ে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮.৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি এবং ২.২ বিলিয়ন ডলার আমদানি। প্রধান রপ্তানি পণ্য—তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ইত্যাদি। চীনের বিপুল অঙ্কের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি পূরণে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর দিকে মার্কিন ক্রেতারা ঝুঁকবেন—এটি এখন সময়ের ব্যাপার। তবে সুযোগ তখনই বাস্তবে রূপ নেবে, যদি সরকার ও বেসরকারি খাত সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


চীনা পণ্যে ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক: বাংলাদেশের জন্য 'গোল্ডেন চ্যান্স'?

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৫

featured Image
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে উথান হতে পারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন মোড় নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হুমকির মুখে। অন্যদিকে, এতে নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলছে বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগী দেশের জন্য। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা জবাবে চীনও ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের অবস্থান দুর্বল হলে, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ ও বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা।  

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকবে। তাতে স্বল্প মেয়াদে পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য সোনালি সময় আসবে।

এম এ রাজ্জাক, চেয়ারম্যান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট

 

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে

বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ শুল্কের ফলে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে আদেশ সরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। এরই মধ্যে কিছু মার্কিন ব্র্যান্ড বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধানে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্পের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার আশ্বাসও পেয়েছে। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-মেইল পাচ্ছি। তারা চীন থেকে অর্ডার সরিয়ে নিতে চায়। কারণ অতিরিক্ত শুল্কের কারণে চীন থেকে পণ্য আনায় লাভ থাকছে না।’

বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, তবে বাংলাদেশ হতে পারে বিজয়ী

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) আশঙ্কা করছে, এই বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৩ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে এই সংকটে সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। র‌্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘এই উত্তেজনা মধ্যমেয়াদে আমাদের জন্য সোনালি সময় হয়ে উঠতে পারে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করবে নীতি সহায়তা, অবকাঠামো ও দক্ষতার ওপর।’

কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ যদি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়, তবে প্রয়োজন হবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত খাতে মনোযোগ। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু, ইলেকট্রনিকস, উচ্চমূল্যের পোশাক, জুতা ও খেলনা খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির বলেন, ‘চীনের উচ্চমূল্যের অর্ডারগুলো বাংলাদেশে আসতে পারে। আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে, বিশেষায়িত খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য কোথায় দাঁড়িয়ে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮.৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি এবং ২.২ বিলিয়ন ডলার আমদানি। প্রধান রপ্তানি পণ্য—তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ইত্যাদি। চীনের বিপুল অঙ্কের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি পূরণে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর দিকে মার্কিন ক্রেতারা ঝুঁকবেন—এটি এখন সময়ের ব্যাপার। তবে সুযোগ তখনই বাস্তবে রূপ নেবে, যদি সরকার ও বেসরকারি খাত সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেয়।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত