নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চীনের সহযোগিতা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে: ফরিদা আখতার

চীনের সহযোগিতা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে: ফরিদা আখতার

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়িয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

তিনি আজ বিকেলে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU)-এর প্রধান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা-চায়না ডে ২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ফরিদা আখতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ চীন থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত—এ নদী দুই দেশের সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র।

উপদেষ্টা জানান, ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরে গিয়ে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছেন। এসব চুক্তি সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্যখাতসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করবে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জেলে, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এখন প্রায় মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাছ ও মাছজাত পণ্য শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চীন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রয়েছে এবং সম্পর্ক দিন দিন সুদৃঢ় হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধির আধুনিক পদ্ধতি, আইওটি-ভিত্তিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল পশু আবাসন, রোগ নিয়ন্ত্রণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থা, মাছ অবতরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ এবং শুকনো মাছ ও মূল্য সংযোজন শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ঢাকা-চায়না ডে অনুষ্ঠান চীন ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন। এই কার্যক্রম তরুণ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে চীনা সংস্কৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও বন্ধন গড়ে তুলছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন এক ঐতিহাসিক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন NSU-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, আর অন্যান্য বক্তৃতা করেন NSU ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড সদস্য বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


চীনের সহযোগিতা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে: ফরিদা আখতার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়িয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

তিনি আজ বিকেলে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU)-এর প্রধান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা-চায়না ডে ২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ফরিদা আখতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ চীন থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত—এ নদী দুই দেশের সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র।

উপদেষ্টা জানান, ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরে গিয়ে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছেন। এসব চুক্তি সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্যখাতসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করবে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জেলে, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এখন প্রায় মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাছ ও মাছজাত পণ্য শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চীন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রয়েছে এবং সম্পর্ক দিন দিন সুদৃঢ় হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধির আধুনিক পদ্ধতি, আইওটি-ভিত্তিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল পশু আবাসন, রোগ নিয়ন্ত্রণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থা, মাছ অবতরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ এবং শুকনো মাছ ও মূল্য সংযোজন শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ঢাকা-চায়না ডে অনুষ্ঠান চীন ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন। এই কার্যক্রম তরুণ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে চীনা সংস্কৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও বন্ধন গড়ে তুলছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন এক ঐতিহাসিক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন NSU-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, আর অন্যান্য বক্তৃতা করেন NSU ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড সদস্য বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত