নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত আনার কৌশল খুঁজছে সরকার

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত আনার কৌশল খুঁজছে সরকার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে—এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে রায় ঘোষণা করা হয়। অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার ও রাষ্ট্র আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে। পলাতক আসামিদের দেশে ফেরানোর দুটি প্রধান পথ রয়েছে:

  1. ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বহিঃসমর্পণ চুক্তি ব্যবহার: ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার পলাতকদের ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ করতে পারে।

  2. ইন্টারপোলের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যদি পলাতকরা অন্য দেশে আশ্রয় পায়, তা ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে গণ্য হবে। ভারতের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে—দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হবে। যদি আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত থাকে, তা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে গণ্য হবে।”

অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনা ও কামালের গ্রেপ্তারের দিন থেকেই সাজা কার্যকর হবে। রাষ্ট্র আইন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

রায়ের দিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামীম। পলাতক দুই আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র-নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ১০ জুলাই গঠিত হয় এবং সাবেক আইজিপি মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন ট্রাইব্যুনাল অনুমোদন করেন।

এখন সরকারি উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দিকে তাকিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও আইন-অর্থনীতির মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত আনার কৌশল খুঁজছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে—এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে রায় ঘোষণা করা হয়। অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার ও রাষ্ট্র আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে। পলাতক আসামিদের দেশে ফেরানোর দুটি প্রধান পথ রয়েছে:

  1. ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বহিঃসমর্পণ চুক্তি ব্যবহার: ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার পলাতকদের ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ করতে পারে।

  2. ইন্টারপোলের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যদি পলাতকরা অন্য দেশে আশ্রয় পায়, তা ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে গণ্য হবে। ভারতের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে—দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হবে। যদি আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত থাকে, তা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে গণ্য হবে।”

অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনা ও কামালের গ্রেপ্তারের দিন থেকেই সাজা কার্যকর হবে। রাষ্ট্র আইন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

রায়ের দিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামীম। পলাতক দুই আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র-নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ১০ জুলাই গঠিত হয় এবং সাবেক আইজিপি মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন ট্রাইব্যুনাল অনুমোদন করেন।

এখন সরকারি উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দিকে তাকিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও আইন-অর্থনীতির মহল।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত