২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি
গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে আলুর দামে বড় ধরনের ধস নামায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে জেলার বিভিন্ন মাঠ সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই আলু তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে আলু তুলে পরিষ্কার করে বস্তায় ভরে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অনেকে আবার ভ্যানযোগে আলু নিয়ে ছুটছেন মহাস্থান হাটের দিকে। কিন্তু হাড়ভাঙা খাটুনি আর মোটা অংকের বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলায় হতাশ সবাই।

দামের তুলনামূলক চিত্র: কৃষকদের তথ্যমতে, গত বছর আগাম আলু প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। অথচ চলতি বছর বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা।
শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. অহেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত বছর আগাম আলুতে ভালো লাভ পেয়েছিলাম। এবার সার, বীজ, কীটনাশক আর শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। অথচ আলুর দাম এক্কেবারে পড়ে গেছে। এই দামে বিক্রি করলে খরচের টাকাই উঠবে না, পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।"
দরপতনের কারণ: পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখনও প্রচুর পরিমাণে পুরনো আলু মজুত থাকায় নতুন আলুর চাহিদা ও দাম কম। গাবতলীর পাইকার মো. আলেক মিয়া জানান, গত বছরের পুরনো আলু এখনও বাজারে সহজলভ্য। ফলে ভোক্তাদের মধ্যে নতুন আলুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও দামের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের ভাষ্য: জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বগুড়ায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১৭ টন। তবে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতায় দাম কম।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, "গত বছর আলুর দাম কম থাকায় এবার আমরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ৫৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর নির্ধারণ করেছিলাম। কৃষকদের আমরা সরিষা বা অন্য লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। তবে যারা আলু চাষ করেছেন, তারা এখন বাজার পরিস্থিতির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।"

কৃষকদের দাবি: কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ে দ্রুত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিলে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অন্যথায় আগাম আলুর চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি
গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে আলুর দামে বড় ধরনের ধস নামায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে জেলার বিভিন্ন মাঠ সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই আলু তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে আলু তুলে পরিষ্কার করে বস্তায় ভরে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অনেকে আবার ভ্যানযোগে আলু নিয়ে ছুটছেন মহাস্থান হাটের দিকে। কিন্তু হাড়ভাঙা খাটুনি আর মোটা অংকের বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলায় হতাশ সবাই।

দামের তুলনামূলক চিত্র: কৃষকদের তথ্যমতে, গত বছর আগাম আলু প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। অথচ চলতি বছর বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা।
শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. অহেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত বছর আগাম আলুতে ভালো লাভ পেয়েছিলাম। এবার সার, বীজ, কীটনাশক আর শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। অথচ আলুর দাম এক্কেবারে পড়ে গেছে। এই দামে বিক্রি করলে খরচের টাকাই উঠবে না, পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।"
দরপতনের কারণ: পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখনও প্রচুর পরিমাণে পুরনো আলু মজুত থাকায় নতুন আলুর চাহিদা ও দাম কম। গাবতলীর পাইকার মো. আলেক মিয়া জানান, গত বছরের পুরনো আলু এখনও বাজারে সহজলভ্য। ফলে ভোক্তাদের মধ্যে নতুন আলুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও দামের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের ভাষ্য: জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বগুড়ায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১৭ টন। তবে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতায় দাম কম।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, "গত বছর আলুর দাম কম থাকায় এবার আমরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ৫৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর নির্ধারণ করেছিলাম। কৃষকদের আমরা সরিষা বা অন্য লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। তবে যারা আলু চাষ করেছেন, তারা এখন বাজার পরিস্থিতির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।"

কৃষকদের দাবি: কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ে দ্রুত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিলে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অন্যথায় আগাম আলুর চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক।

আপনার মতামত লিখুন