নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী চরম অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশ

নির্বাচন-পরবর্তী চরম অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশ

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর এক রূপান্তরমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চ্যালেঞ্জ নিলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

একদিকে প্রবৃদ্ধি ৪.৭-৪.৯ শতাংশের ঘরে আটকে আছে, অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়ানোয় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর। বর্তমানে দেশে ৯৫ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়।

সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে মোটরসাইকেল: প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২ লিটার। প্রাইভেট কার: সর্বোচ্চ ১০ লিটার। দূরপাল্লার বাস-ট্রাক: ২০০-২২০ লিটার ডিজেল।

৩ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুদ ১৪ দিন এবং পেট্রোলের মজুদ ১৫ দিনের। তবে ঈদুল ফিতরের সময় যাত্রী ভোগান্তি কমাতে রেশনিং কিছুটা শিথিল করা হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ স্থগিত হওয়ায় দেশের ৪টি সার কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে ইউরিয়া সারের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন খরচ ও খাদ্য সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় মাসে ৭৬-৮৩ কোটি ডলার বেড়ে যাওয়ায় দেশে এক প্রকার ‘ফিসকাল ইমার্জেন্সি’ বা আর্থিক জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে: ১. বৈদেশিক ঋণ: জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির জন্য আইএমএফ (১৩০ কোটি ডলার) এবং এডিবি (৫০ কোটি ডলার) সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ২. বিকল্প উৎস: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি ভারত, চীন ও উজবেকিস্তানের সাথে আলোচনা চলছে। ৩. ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানি চুরি ও কালোবাজারি রোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি অনিরাপত্তা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মন্দাভাব বিবেচনায় সরকার এই উত্তরণ প্রক্রিয়া আপাতত পেছানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহলে অনুরোধ জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নির্বাচন-পরবর্তী চরম অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর এক রূপান্তরমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চ্যালেঞ্জ নিলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

একদিকে প্রবৃদ্ধি ৪.৭-৪.৯ শতাংশের ঘরে আটকে আছে, অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়ানোয় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর। বর্তমানে দেশে ৯৫ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়।

সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে মোটরসাইকেল: প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২ লিটার। প্রাইভেট কার: সর্বোচ্চ ১০ লিটার। দূরপাল্লার বাস-ট্রাক: ২০০-২২০ লিটার ডিজেল।

৩ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুদ ১৪ দিন এবং পেট্রোলের মজুদ ১৫ দিনের। তবে ঈদুল ফিতরের সময় যাত্রী ভোগান্তি কমাতে রেশনিং কিছুটা শিথিল করা হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ স্থগিত হওয়ায় দেশের ৪টি সার কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে ইউরিয়া সারের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন খরচ ও খাদ্য সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় মাসে ৭৬-৮৩ কোটি ডলার বেড়ে যাওয়ায় দেশে এক প্রকার ‘ফিসকাল ইমার্জেন্সি’ বা আর্থিক জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে: ১. বৈদেশিক ঋণ: জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির জন্য আইএমএফ (১৩০ কোটি ডলার) এবং এডিবি (৫০ কোটি ডলার) সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ২. বিকল্প উৎস: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি ভারত, চীন ও উজবেকিস্তানের সাথে আলোচনা চলছে। ৩. ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানি চুরি ও কালোবাজারি রোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি অনিরাপত্তা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মন্দাভাব বিবেচনায় সরকার এই উত্তরণ প্রক্রিয়া আপাতত পেছানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহলে অনুরোধ জানিয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত