নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

গাংনীতে সরিষার হলুদ সমুদ্রে মধুর খোঁজ: ৮৫ বাক্সে ২০ মণ মধু সংগ্রহের স্বপ্ন

গাংনীতে সরিষার হলুদ সমুদ্রে মধুর খোঁজ: ৮৫ বাক্সে ২০ মণ মধু সংগ্রহের স্বপ্ন
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দিগন্তজোড়া সরিষা খেতে এখন হলুদের সমারোহ। আর এই সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। উপজেলার তেরাইল কলেজের সামনে বিস্তীর্ণ সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে ৮৫টি মৌ-বাক্স। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের এই নান্দনিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মৌচাষিদের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা— মৌচাষিরা জানান, কাঠের তৈরি বিশেষ বাক্সে রানি মৌমাছি রেখে এই পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হয়। তেরাইল এলাকার এই ৮৫টি বাক্স থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ মণ (৮০০ কেজি) মধু পাওয়ার আশা করছেন তারা। মৌচাষি মো. সোহান আলী বলেন, “এই এলাকায় প্রচুর সরিষার আবাদ হয়। সাধারণত তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মৌমাছিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে পারে।” [caption id="attachment_19212" align="aligncenter" width="300"] ছবি: নজরবিডি ডট কম[/caption] আরেক চাষি মো. কামাল হোসেন জানান, সরিষা ফুলের মধু অত্যন্ত বিশুদ্ধ। প্রতি কেজি মধু তারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এই সংগ্রহের কাজ। আগামী ৩০ তারিখের পর থেকে এখান থেকে পুরোদমে মধু আহরণ শুরু হবে। সরাসরি মধু কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ— দোকানের প্রক্রিয়াজাত মধুর চেয়ে চোখের সামনে সংগ্রহ করা তাজা মধুর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। মধু দেখতে আসা সাজেদুর রহমান ও মোখলেছুর রহমান জানান, বাজারের মধুতে অনেক সময় ভেজাল থাকার ভয় থাকে, কিন্তু মৌচাষিদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা মধু নিঃসন্দেহে খাঁটি। কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ— গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, “মধু স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাক্স পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ একদিকে যেমন চাষিদের লাভবান করছে, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলনও ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।” মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর সরিষা ফুলের ঘ্রাণে তেরাইল এলাকার প্রকৃতি এখন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। সরিষা ফুল শেষ হলে মৌচাষিরা অন্য কোনো ফসলের সন্ধানে নতুন এলাকায় পাড়ি দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


গাংনীতে সরিষার হলুদ সমুদ্রে মধুর খোঁজ: ৮৫ বাক্সে ২০ মণ মধু সংগ্রহের স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দিগন্তজোড়া সরিষা খেতে এখন হলুদের সমারোহ। আর এই সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। উপজেলার তেরাইল কলেজের সামনে বিস্তীর্ণ সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে ৮৫টি মৌ-বাক্স। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের এই নান্দনিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মৌচাষিদের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা— মৌচাষিরা জানান, কাঠের তৈরি বিশেষ বাক্সে রানি মৌমাছি রেখে এই পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হয়। তেরাইল এলাকার এই ৮৫টি বাক্স থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ মণ (৮০০ কেজি) মধু পাওয়ার আশা করছেন তারা। মৌচাষি মো. সোহান আলী বলেন, “এই এলাকায় প্রচুর সরিষার আবাদ হয়। সাধারণত তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মৌমাছিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে পারে।” [caption id="attachment_19212" align="aligncenter" width="300"] ছবি: নজরবিডি ডট কম[/caption] আরেক চাষি মো. কামাল হোসেন জানান, সরিষা ফুলের মধু অত্যন্ত বিশুদ্ধ। প্রতি কেজি মধু তারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এই সংগ্রহের কাজ। আগামী ৩০ তারিখের পর থেকে এখান থেকে পুরোদমে মধু আহরণ শুরু হবে। সরাসরি মধু কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ— দোকানের প্রক্রিয়াজাত মধুর চেয়ে চোখের সামনে সংগ্রহ করা তাজা মধুর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। মধু দেখতে আসা সাজেদুর রহমান ও মোখলেছুর রহমান জানান, বাজারের মধুতে অনেক সময় ভেজাল থাকার ভয় থাকে, কিন্তু মৌচাষিদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা মধু নিঃসন্দেহে খাঁটি। কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ— গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, “মধু স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাক্স পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ একদিকে যেমন চাষিদের লাভবান করছে, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলনও ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।” মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর সরিষা ফুলের ঘ্রাণে তেরাইল এলাকার প্রকৃতি এখন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। সরিষা ফুল শেষ হলে মৌচাষিরা অন্য কোনো ফসলের সন্ধানে নতুন এলাকায় পাড়ি দেবেন।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত