নজরবিডি, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে টানা ১৩ দিন ধরে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। গত দুই রাতে এই বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। তেহরানের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী ‘শাহ আমলের’ পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ এখন কেবল তেহরানে সীমাবদ্ধ নেই। মাশহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ এবং ইয়জদের মতো বড় শহরগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
মসজিদে আগুন: তেহরানের সাদা’ত আবাত এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্লোগান: বিক্ষোভকারীরা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ ও মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির সমর্থনে রাজতন্ত্রের পক্ষে আওয়াজ তুলছেন।
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। টাইম ম্যাগাজিন-এর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র তেহরানেই ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা: রাষ্ট্রীয় টিভিতে অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে না দেন। সেখানে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে সরকার দায়ী থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
এই সহিংসতার জন্য ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরান দাবি করেছে, বিদেশি প্ররোচণায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে শক্তিশালী সামরিক হামলা চালাবে।” তিনি ইরানিদের ‘সাহসী জাতি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানান।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ও আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট এই বিক্ষোভ এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়ে খামেনি সরকারের অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬
নজরবিডি, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে টানা ১৩ দিন ধরে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। গত দুই রাতে এই বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। তেহরানের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী ‘শাহ আমলের’ পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ এখন কেবল তেহরানে সীমাবদ্ধ নেই। মাশহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ এবং ইয়জদের মতো বড় শহরগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
মসজিদে আগুন: তেহরানের সাদা’ত আবাত এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্লোগান: বিক্ষোভকারীরা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ ও মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির সমর্থনে রাজতন্ত্রের পক্ষে আওয়াজ তুলছেন।
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। টাইম ম্যাগাজিন-এর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র তেহরানেই ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা: রাষ্ট্রীয় টিভিতে অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে না দেন। সেখানে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে সরকার দায়ী থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
এই সহিংসতার জন্য ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরান দাবি করেছে, বিদেশি প্ররোচণায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে শক্তিশালী সামরিক হামলা চালাবে।” তিনি ইরানিদের ‘সাহসী জাতি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানান।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ও আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট এই বিক্ষোভ এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়ে খামেনি সরকারের অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন