কম্বোডিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘অভিভাবক’ মামুন, মানবতার বন্ধু এখন অপশক্তির চোখের কাঁটা
কম্বোডিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এক পরম নির্ভরতা ও আস্থার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন (অপু)। বিপদগ্রস্ত প্রবাসী ভাই-বোনদের সেবায় নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এই মানবতার বন্ধু এখন একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির চোখের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন তার সবচেয়ে বড় অপরাধ। তার ভালো কাজের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছে আব্দুল্লাহ আল মামুন এখন ‘প্রবাসীদের অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত। প্রবাসে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করে দাফনের ব্যবস্থা করা কিংবা মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়।
এছাড়া অসুস্থ প্রবাসীদের হাসপাতালে চিকিৎসায় সহায়তা, দুর্ঘটনা বা আইনি জটিলতায় পাশে দাঁড়ানো, আটকে থাকা বেতন আদায়, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত সহায়তায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
এমনকি অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার প্রবাসীদের উদ্ধারে তিনি উদ্যোগী হন। প্রত্যক্ষদর্শী প্রবাসী কায়সার আহমেদ বলেন, “অপু ভাই যখনই কারও সমস্যার কথা শোনেন, দিন-রাতের তোয়াক্কা না করে ছুটে যান। আমাদের জন্য তিনি এখন পরিবারেরই একজন।”
তবে মামুনের এই মানবিক কার্যক্রমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু কম্বোডিয়ান, পাকিস্তানি ও চীনা নাগরিকের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র মানবপাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধে জড়িত।
প্রবাসীদের দাবি, আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করায় তিনি চক্রটির রোষানলে পড়েছেন।
চক্রটি এখন তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে নানা ধরনের হয়রানি ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন প্রবাসী আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, “মামুন ভাই যখন অপশক্তির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিলেন, তখন তারা বুঝতে পারল—একে না সরালে তাদের অবৈধ ব্যবসা চলবে না। তাই শুরু হয়েছে এই ষড়যন্ত্র।”
আরেক প্রবাসী আবু রায়হান বলেন, “যে মানুষটি সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়ায়, তাকেই যদি আজ অপপ্রচারের শিকার হতে দেখি, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে কম্বোডিয়ায় বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির বিশ্বাস, ষড়যন্ত্র করে সত্যকে বেশিদিন চাপা রাখা যায় না। তাদের আশা, সব বাধা ও হুমকির মধ্যেও আব্দুল্লাহ আল মামুন তার মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই।
আপনার মতামত লিখুন