নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

হরমুজ দখলে ট্রাম্পের ‘মিত্র জোট’ গঠনের ডাক, ফ্রান্সের সরাসরি প্রত্যাখ্যান

হরমুজ দখলে ট্রাম্পের ‘মিত্র জোট’ গঠনের ডাক, ফ্রান্সের সরাসরি প্রত্যাখ্যান

হরমুজ প্রণালীর দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের অবরোধ ভাঙতে ‘অনেক দেশ’ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। অন্যদিকে ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবরোধ ভাঙতে একটি ‘মিত্র জোট’ গঠনের ঘোষণা দিলেও তাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে ফ্রান্স। প্যারিস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ১৫তম দিনেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে কাজ করবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সরাসরি জানায়:

"না। আমাদের বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত: রক্ষণাত্মক ও সুরক্ষামূলক।"

ইরানের আইআরজিসি-র নৌবাহিনী প্রধান আলিরেজা তাংসিরি জানিয়েছেন, প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, বরং ‘নিয়ন্ত্রণ’ করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই পথটি কেবল ‘শত্রু এবং তাদের মিত্রদের’ ট্যাংকারের জন্য বন্ধ।

অন্যদিকে, ওযুধ চলাকালীন ভারত ও তুরস্কের সাথে সফল কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরান তাদের কিছু জাহাজকে বিরল ছাড় দিয়েছে:

মোদী-পেজেশকিয়ান আলোচনার পর দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাংকার নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে।

আঙ্কারার অনুরোধে একটি তুর্কি জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আরও ১৪টি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে।

‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা মানে বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া। এই এলএনজি সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল, যা বিশ্বের ৪০ শতাংশ খাদ্যশস্য উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিংস কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, "কূটনৈতিক চুক্তি ছাড়া যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে সস্তা ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে দামি মার্কিন জাহাজগুলোকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


হরমুজ দখলে ট্রাম্পের ‘মিত্র জোট’ গঠনের ডাক, ফ্রান্সের সরাসরি প্রত্যাখ্যান

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালীর দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের অবরোধ ভাঙতে ‘অনেক দেশ’ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। অন্যদিকে ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবরোধ ভাঙতে একটি ‘মিত্র জোট’ গঠনের ঘোষণা দিলেও তাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে ফ্রান্স। প্যারিস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ১৫তম দিনেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে কাজ করবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সরাসরি জানায়:

"না। আমাদের বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত: রক্ষণাত্মক ও সুরক্ষামূলক।"

ইরানের আইআরজিসি-র নৌবাহিনী প্রধান আলিরেজা তাংসিরি জানিয়েছেন, প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, বরং ‘নিয়ন্ত্রণ’ করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই পথটি কেবল ‘শত্রু এবং তাদের মিত্রদের’ ট্যাংকারের জন্য বন্ধ।

অন্যদিকে, ওযুধ চলাকালীন ভারত ও তুরস্কের সাথে সফল কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরান তাদের কিছু জাহাজকে বিরল ছাড় দিয়েছে:

মোদী-পেজেশকিয়ান আলোচনার পর দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাংকার নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে।

আঙ্কারার অনুরোধে একটি তুর্কি জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আরও ১৪টি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে।

‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা মানে বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া। এই এলএনজি সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল, যা বিশ্বের ৪০ শতাংশ খাদ্যশস্য উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিংস কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, "কূটনৈতিক চুক্তি ছাড়া যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে সস্তা ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে দামি মার্কিন জাহাজগুলোকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত