নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ভূগর্ভস্থ 'মিসাইল সিটি'তে কী হয়, কেন ইসরায়েলের কাছে বড় ঝুঁকি?

ইরানের ভূগর্ভস্থ 'মিসাইল সিটি'তে কী হয়, কেন ইসরায়েলের কাছে বড় ঝুঁকি?

কয়েক সপ্তাহের নিরলস মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান এখনও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তার রকেট এবং ড্রোনের বিশাল অস্ত্রাগার ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে।


মিসাইল সিটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহের নিরলস বিমান হামলা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের রকেট এবং ড্রোন সক্ষমতা এখনো সচল।

পেন্টাগনের শক্তিশালী 'বাঙ্কার-বাস্টিং' বোমা কিংবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি— কোনো কিছুই যেন দমাতে পারছে না ইরানের এই ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ বা ‘মিসাইল সিটি’ নেটওয়ার্ককে।

ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইয়াজদ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এই নেটওয়ার্কের এক অনন্য উদাহরণ। এটি কোনো সাধারণ বাঙ্কার নয়, বরং গ্রানাইট পর্বতের প্রায় ৫০০ মিটার (১৬০০ ফুটের বেশি) গভীরে খোদাই করা এক দুর্গ।

পৃথিবীর অন্যতম কঠিন শিলা দিয়ে আবৃত হওয়ায় এটি আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেন্ট্রেটর (MOP) বোমার আঘাতও সরাসরি সহ্য করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনা ধ্বংস করতে হলে একই পয়েন্টে একাধিক সুনির্দিষ্ট হামলা এবং নিখুঁত অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্য প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব।

ইয়াজদ ঘাঁটির ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা টানেলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন এলাকা, স্টোরেজ ডিপো এবং বিভিন্ন দিকের বহির্গমন পথকে যুক্ত করতে রেললাইন ব্যবহার করা হয়।

ট্রাকে করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত বাইরে এনে ফায়ার করা হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভারী সাঁজোয়া দরজার আড়ালে ভূগর্ভে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এই 'হিট অ্যান্ড রান' পদ্ধতির কারণে ড্রোন বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এদের লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রমতে, ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য:

ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক এবং হাজার হাজার ড্রোন এখনো অক্ষত রয়েছে।

টানেলের প্রবেশপথের ৭৭ শতাংশে হামলা চালানো হলেও, ইরানি বাহিনী দ্রুত ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করছে।

ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ এখনো সচল, যা হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের জন্য বড় হুমকি।

হামলার গতি কমলেও ইরান নিয়মিত বিরতিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবারও কুয়েতের তেল শোধনাগার এবং আবুধাবির গ্যাস কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা দ্বিতীয় একটি মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘পাথরের যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ইরান এই স্থিতিস্থাপকতার ওপর ভরসা করে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীতে একচ্ছত্র অধিকারের গ্যারান্টি দাবি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাউন্ড অপারেশন বা বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে এই সুগভীর টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, কয়েক দশকের প্রস্তুতি এবং গ্রানাইট পাহাড়ের সুরক্ষা ইরানকে এক কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে, যা আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ইরানের ভূগর্ভস্থ 'মিসাইল সিটি'তে কী হয়, কেন ইসরায়েলের কাছে বড় ঝুঁকি?

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কয়েক সপ্তাহের নিরলস মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান এখনও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তার রকেট এবং ড্রোনের বিশাল অস্ত্রাগার ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে।


মিসাইল সিটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহের নিরলস বিমান হামলা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের রকেট এবং ড্রোন সক্ষমতা এখনো সচল।

পেন্টাগনের শক্তিশালী 'বাঙ্কার-বাস্টিং' বোমা কিংবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি— কোনো কিছুই যেন দমাতে পারছে না ইরানের এই ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ বা ‘মিসাইল সিটি’ নেটওয়ার্ককে।

ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইয়াজদ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এই নেটওয়ার্কের এক অনন্য উদাহরণ। এটি কোনো সাধারণ বাঙ্কার নয়, বরং গ্রানাইট পর্বতের প্রায় ৫০০ মিটার (১৬০০ ফুটের বেশি) গভীরে খোদাই করা এক দুর্গ।

পৃথিবীর অন্যতম কঠিন শিলা দিয়ে আবৃত হওয়ায় এটি আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেন্ট্রেটর (MOP) বোমার আঘাতও সরাসরি সহ্য করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনা ধ্বংস করতে হলে একই পয়েন্টে একাধিক সুনির্দিষ্ট হামলা এবং নিখুঁত অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্য প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব।

ইয়াজদ ঘাঁটির ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা টানেলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন এলাকা, স্টোরেজ ডিপো এবং বিভিন্ন দিকের বহির্গমন পথকে যুক্ত করতে রেললাইন ব্যবহার করা হয়।

ট্রাকে করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত বাইরে এনে ফায়ার করা হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভারী সাঁজোয়া দরজার আড়ালে ভূগর্ভে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এই 'হিট অ্যান্ড রান' পদ্ধতির কারণে ড্রোন বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এদের লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রমতে, ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য:

ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক এবং হাজার হাজার ড্রোন এখনো অক্ষত রয়েছে।

টানেলের প্রবেশপথের ৭৭ শতাংশে হামলা চালানো হলেও, ইরানি বাহিনী দ্রুত ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করছে।

ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ এখনো সচল, যা হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের জন্য বড় হুমকি।

হামলার গতি কমলেও ইরান নিয়মিত বিরতিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবারও কুয়েতের তেল শোধনাগার এবং আবুধাবির গ্যাস কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা দ্বিতীয় একটি মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘পাথরের যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ইরান এই স্থিতিস্থাপকতার ওপর ভরসা করে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীতে একচ্ছত্র অধিকারের গ্যারান্টি দাবি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাউন্ড অপারেশন বা বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে এই সুগভীর টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, কয়েক দশকের প্রস্তুতি এবং গ্রানাইট পাহাড়ের সুরক্ষা ইরানকে এক কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে, যা আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত