পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত কয়েক বছরে এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের চাবিকাঠি এখন আর স্থানীয় নেতাদের হাতে নেই। পুরো বিষয়টি এখন পরিচালিত হচ্ছে দুটি পেশাদার সংস্থার মাধ্যমে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচারের স্ক্রিপ্ট—সবই ঠিক করে দিচ্ছে এই সংস্থাটি।
এমনকি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আই-প্যাকের কর্মীদের কথাই এখন শেষ কথা। আই-প্যাকের প্রভাব এতটাই গভীর যে, সংস্থাটির কর্ণধারের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশির সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি তাদের নির্বাচনী কৌশলের জন্য পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ বা ‘আইটি সেলে’র ওপর। অমিত মালভিয়ার নেতৃত্বে এই টিমটি কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেল থেকে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহের সফরের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে কোন প্রার্থী কী বলবেন, তার সবটাই নির্ধারণ করে দিচ্ছে এই আইটি সেল।
আই-প্যাক ও আইটি সেলের এই আধিপত্যের ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতারাও এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। তারা মূলত এই দুই সংস্থার দেওয়া ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পেশাদার সংস্থাগুলোর এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ এক নজিরবিহীন ঘটনা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত কয়েক বছরে এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের চাবিকাঠি এখন আর স্থানীয় নেতাদের হাতে নেই। পুরো বিষয়টি এখন পরিচালিত হচ্ছে দুটি পেশাদার সংস্থার মাধ্যমে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচারের স্ক্রিপ্ট—সবই ঠিক করে দিচ্ছে এই সংস্থাটি।
এমনকি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আই-প্যাকের কর্মীদের কথাই এখন শেষ কথা। আই-প্যাকের প্রভাব এতটাই গভীর যে, সংস্থাটির কর্ণধারের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশির সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি তাদের নির্বাচনী কৌশলের জন্য পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ বা ‘আইটি সেলে’র ওপর। অমিত মালভিয়ার নেতৃত্বে এই টিমটি কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেল থেকে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহের সফরের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে কোন প্রার্থী কী বলবেন, তার সবটাই নির্ধারণ করে দিচ্ছে এই আইটি সেল।
আই-প্যাক ও আইটি সেলের এই আধিপত্যের ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতারাও এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। তারা মূলত এই দুই সংস্থার দেওয়া ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পেশাদার সংস্থাগুলোর এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ এক নজিরবিহীন ঘটনা।

আপনার মতামত লিখুন