জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৩ মে মামলার ষষ্ঠ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ওই সাক্ষী অসুস্থ থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তৎকালীন সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আজকের দিন (১৮ মে) নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এই মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট মনজুর আলম।
এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল এই মামলার পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) এক কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন হয়। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোসহ অন্য আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন। তারও আগে গত ১৯ এপ্রিল ওই কর্মকর্তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিল আদালত।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান জুনাইদ আহমেদ পলক। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।
এ ছাড়া আন্দোলন দমনে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার পৃথক অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র) আমলে নিয়েছিলেন একই আদালত।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক, মানবতাবিরোধী অপরাধ, সাক্ষ্যগ্রহণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ট্রাইব্যুনাল-১, আদালত সংবাদ, বাংলাদেশ আইনি সংবাদ International Crimes Tribunal, Sajeeb Wazed Joy, Zunaid Ahmed Palak, ICT Bangladesh, Witness Testimony, July Uprising Case, Court News Dhaka, Bangladesh Legal News

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৩ মে মামলার ষষ্ঠ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ওই সাক্ষী অসুস্থ থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তৎকালীন সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আজকের দিন (১৮ মে) নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এই মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট মনজুর আলম।
এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল এই মামলার পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) এক কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন হয়। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোসহ অন্য আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন। তারও আগে গত ১৯ এপ্রিল ওই কর্মকর্তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিল আদালত।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান জুনাইদ আহমেদ পলক। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।
এ ছাড়া আন্দোলন দমনে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার পৃথক অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র) আমলে নিয়েছিলেন একই আদালত।

আপনার মতামত লিখুন