পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি আদর্শ খাবার দুধ। নিয়মিত দুধ পানের মাধ্যমে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও উচ্চমানের প্রোটিন পায়। ইসলামেও দুধের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।
পবিত্র মেরাজের রাতে জিবরাঈল (আ.) রাসুল (সা.)-কে দুধ পান করতে দিয়েছিলেন। মেরাজের রাতে বাইতুল মুকাদ্দাসে নবীদের নিয়ে ইমামতি করে বের হওয়ার সময় জিবরাঈল (আ.) নবীজীর সামনে দুটি পেয়ালা রেখেছিলেন—একটি ছিল দুধের, অপরটি শরাবের (মদ)।
নবীজি (সা.) তখন দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করেন। জিবরাঈল (আ.) তখন বলেন, "আপনি (দ্বীনের) স্বভাবসিদ্ধ বিষয়টি নির্বাচন করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "আপনি যদি মদের পেয়ালা নিতেন, তাহলে আপনার উম্মত বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৪)
বর্তমানে সমাজে অনেককেই দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক উপলক্ষ, কোনো আনন্দ, কিংবা অতীত ভুল থেকে উত্তরণ ও সঠিক পথে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করার সময় ঘটা করে দুধ দিয়ে গোসল করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন কাজকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ইসলামী চিন্তাবিদেরা এমন কাজকে উদ্ভট, অপ্রয়োজনীয় ও কুসংস্কারমূলক কাজ বলে চিহ্নিত করেছেন। মূলত দুধ একটি নিয়ামত এবং গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। ইসলামে খাবার-দাবার এবং যেকোনো বস্তুর অপচয়কে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কাজেই দুধ দিয়ে গোসল করার মতো লৌকিকতা ও কুসংস্কার থেকে বিরত থাকা উচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘হে আদমসন্তান, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
‘নিশ্চয়ই যারা অপচয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৮)
নিজের কোনো ভুল বুঝতে পারার পর বাস্তব মানসিকতা ও কর্মপন্থা পরিবর্তন না করে, শুধু দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে সেই ভুল বা অপরাধ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে একদিকে যেমন পুষ্টিকর খাবারের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই এসব সামাজিক কুসংস্কার পরিহার করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ কখনো ভুল থেকে উত্তরণ করতে চাইলে তার জন্য প্রকৃত তওবা ও অনুশোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। খাঁটি তওবার মাধ্যমে মানুষের হক (বান্দার হক) ও শিরকের গুনাহ ছাড়া সব ধরনের গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। তাই কখনো অনুশোচনা বোধ করলে কোনো লৌকিকতা না করে সরাসরি আল্লাহ তায়ালার দরবারে ফিরে আসা উচিত এবং একান্ত মনে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। তওবার মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা একজন মুসলিমকে গুনাহমুক্ত করেন, দুধ দিয়ে গোসল করে নয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহ্র অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।" (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ দুধ দিয়ে গোসল করা, ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয়, তওবা করার নিয়ম, ইসলামিক ফতোয়া, ধর্মীয় কুসংস্কার, ধর্ম ও জীবন, ইসলামে অপচয় নিষিদ্ধ, ধর্ম সংবাদ Bathing with milk in Islam, Wastage of food in Islam, Islamic rules of Tawbah, Islamic perspective on wasting, Religious misconceptions, Islamic updates, Dhormo news

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি আদর্শ খাবার দুধ। নিয়মিত দুধ পানের মাধ্যমে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও উচ্চমানের প্রোটিন পায়। ইসলামেও দুধের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।
পবিত্র মেরাজের রাতে জিবরাঈল (আ.) রাসুল (সা.)-কে দুধ পান করতে দিয়েছিলেন। মেরাজের রাতে বাইতুল মুকাদ্দাসে নবীদের নিয়ে ইমামতি করে বের হওয়ার সময় জিবরাঈল (আ.) নবীজীর সামনে দুটি পেয়ালা রেখেছিলেন—একটি ছিল দুধের, অপরটি শরাবের (মদ)।
নবীজি (সা.) তখন দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করেন। জিবরাঈল (আ.) তখন বলেন, "আপনি (দ্বীনের) স্বভাবসিদ্ধ বিষয়টি নির্বাচন করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "আপনি যদি মদের পেয়ালা নিতেন, তাহলে আপনার উম্মত বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৪)
বর্তমানে সমাজে অনেককেই দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক উপলক্ষ, কোনো আনন্দ, কিংবা অতীত ভুল থেকে উত্তরণ ও সঠিক পথে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করার সময় ঘটা করে দুধ দিয়ে গোসল করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন কাজকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ইসলামী চিন্তাবিদেরা এমন কাজকে উদ্ভট, অপ্রয়োজনীয় ও কুসংস্কারমূলক কাজ বলে চিহ্নিত করেছেন। মূলত দুধ একটি নিয়ামত এবং গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। ইসলামে খাবার-দাবার এবং যেকোনো বস্তুর অপচয়কে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কাজেই দুধ দিয়ে গোসল করার মতো লৌকিকতা ও কুসংস্কার থেকে বিরত থাকা উচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘হে আদমসন্তান, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
‘নিশ্চয়ই যারা অপচয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৮)
নিজের কোনো ভুল বুঝতে পারার পর বাস্তব মানসিকতা ও কর্মপন্থা পরিবর্তন না করে, শুধু দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে সেই ভুল বা অপরাধ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। দুধ দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে একদিকে যেমন পুষ্টিকর খাবারের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই এসব সামাজিক কুসংস্কার পরিহার করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ কখনো ভুল থেকে উত্তরণ করতে চাইলে তার জন্য প্রকৃত তওবা ও অনুশোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। খাঁটি তওবার মাধ্যমে মানুষের হক (বান্দার হক) ও শিরকের গুনাহ ছাড়া সব ধরনের গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। তাই কখনো অনুশোচনা বোধ করলে কোনো লৌকিকতা না করে সরাসরি আল্লাহ তায়ালার দরবারে ফিরে আসা উচিত এবং একান্ত মনে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। তওবার মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা একজন মুসলিমকে গুনাহমুক্ত করেন, দুধ দিয়ে গোসল করে নয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহ্র অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।" (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)

আপনার মতামত লিখুন