বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) চলমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা কনা।
গত রবিবার রাতে এফডিসি থেকে রামপুরার বাসায় ফেরার পথে তিনি এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
এ সময় ছিনতাইকারী তার কানের দুল ধরে সজোরে টান দিলে এই অভিনেত্রীর কান ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার কানে ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আড্ডা দিতে এফডিসির শিল্পী সমিতির অফিসে গিয়েছিলেন ‘ঢাকা ৮৬’ চলচ্চিত্রের এই নায়িকা। আড্ডা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা বাজার এলাকার একটি গলি দিয়ে হেঁটে বাসায় যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে পরবর্তীতে এক ভিডিও বার্তায় রঞ্জিতা বলেন, “শিল্পী সমিতির নির্বাচন আমাদের কাছে সব সময় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। সেটা দেখার জন্যই আমি এফডিসিতে গিয়েছিলাম। রাতের দিকে বাসায় ফেরার সময় অনুভব করি হঠাৎ কেউ আমাকে পেছন থেকে অনুসরণ করছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিনতাইকারী আমার কানের দুল ধরে জোড়ে টান দেয়।”
ঘটনার আকস্মিকতায় চিৎকার করারও সময় পাননি রঞ্জিতা, প্রচণ্ড আতঙ্কে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান।
তিনি বলেন, “আমি মারাত্মক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে চিৎকার করতে গিয়ে দেখি আমার কান থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে এবং কানে দুলটি নেই। ছিনতাইকারী দুল ধরে টান দেওয়ায় আমার কানটা ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে।”
আহত হওয়ার পর এই অভিনেত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিল্পী সমিতির একাধিক সদস্যকে ফোন দিয়ে সহায়তার অনুরোধ জানান।
রঞ্জিতার দাবি, শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি বা এগিয়ে আসেননি। তবে পরবর্তীতে চিত্রনায়ক জয় চৌধুরীকে ফোন দিলে তিনি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ছুটে আসেন। রঞ্জিতা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জয়সহ কয়েকজন আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায়। আমার কানে সাতটি সেলাই লেগেছে। জীবনে এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা আমার প্রথম। আমি এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ, এমন নির্মম অভিজ্ঞতা যেন আর কোনো নারীর সাথে না হয়।”
উল্লেখ্য, আশির দশকের শেষ ভাগে ঐতিহ্যবাহী পরিচালক ও নায়করাজ রাজ্জাকের হাত ধরে ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমায় বাপ্পারাজের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল রঞ্জিতার।
প্রথম সিনেমা দিয়েই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা ও আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর নায়করাজের পরিচালনায় ‘রাজা মিস্ত্রী’ ও ‘জ্বীনের বাদশা’সহ প্রায় ৩০টি সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে ২০০৫ সালের পর থেকে তাকে আর নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) চলমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা কনা।
গত রবিবার রাতে এফডিসি থেকে রামপুরার বাসায় ফেরার পথে তিনি এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
এ সময় ছিনতাইকারী তার কানের দুল ধরে সজোরে টান দিলে এই অভিনেত্রীর কান ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার কানে ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আড্ডা দিতে এফডিসির শিল্পী সমিতির অফিসে গিয়েছিলেন ‘ঢাকা ৮৬’ চলচ্চিত্রের এই নায়িকা। আড্ডা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা বাজার এলাকার একটি গলি দিয়ে হেঁটে বাসায় যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে পরবর্তীতে এক ভিডিও বার্তায় রঞ্জিতা বলেন, “শিল্পী সমিতির নির্বাচন আমাদের কাছে সব সময় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। সেটা দেখার জন্যই আমি এফডিসিতে গিয়েছিলাম। রাতের দিকে বাসায় ফেরার সময় অনুভব করি হঠাৎ কেউ আমাকে পেছন থেকে অনুসরণ করছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিনতাইকারী আমার কানের দুল ধরে জোড়ে টান দেয়।”
ঘটনার আকস্মিকতায় চিৎকার করারও সময় পাননি রঞ্জিতা, প্রচণ্ড আতঙ্কে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান।
তিনি বলেন, “আমি মারাত্মক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে চিৎকার করতে গিয়ে দেখি আমার কান থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে এবং কানে দুলটি নেই। ছিনতাইকারী দুল ধরে টান দেওয়ায় আমার কানটা ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে।”
আহত হওয়ার পর এই অভিনেত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিল্পী সমিতির একাধিক সদস্যকে ফোন দিয়ে সহায়তার অনুরোধ জানান।
রঞ্জিতার দাবি, শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি বা এগিয়ে আসেননি। তবে পরবর্তীতে চিত্রনায়ক জয় চৌধুরীকে ফোন দিলে তিনি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ছুটে আসেন। রঞ্জিতা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জয়সহ কয়েকজন আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায়। আমার কানে সাতটি সেলাই লেগেছে। জীবনে এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা আমার প্রথম। আমি এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ, এমন নির্মম অভিজ্ঞতা যেন আর কোনো নারীর সাথে না হয়।”
উল্লেখ্য, আশির দশকের শেষ ভাগে ঐতিহ্যবাহী পরিচালক ও নায়করাজ রাজ্জাকের হাত ধরে ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমায় বাপ্পারাজের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল রঞ্জিতার।
প্রথম সিনেমা দিয়েই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা ও আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর নায়করাজের পরিচালনায় ‘রাজা মিস্ত্রী’ ও ‘জ্বীনের বাদশা’সহ প্রায় ৩০টি সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে ২০০৫ সালের পর থেকে তাকে আর নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন