নজর বিডি

নজরে জ্বালানি তেল ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি

ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে গেলেন পুতিন

ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে গেলেন পুতিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে গিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

গতকাল (১৯ মে) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে পুতিনকে বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজটি বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর উচ্চপর্যায়ের সফরকারী দলকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এর আগে গত ১৩ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক ব্যান্ডের অভিবাদন ও তরুণ-তরুণীদের স্লোগানে মুখরিত জমকালো অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল; পুতিনের বেলাতেও বেইজিং বিমানবন্দরে ঠিক একই ধরনের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিনের এই সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়:

“আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করাই প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।”

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর দূরত্ব তৈরি হলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অভূতপূর্বভাবে গভীর হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াউনের মতে, বর্তমান বিশ্বে চীন ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক সবচেয়ে ‘সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উদাহরণ।

চীনে পৌঁছানোর আগে দেশটির জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ‘অভাবনীয় উচ্চতায়’ পৌঁছেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ‘এশিয়া সোসাইটি’র কর্মকর্তা লায়েল মরিস মনে করেন, পুতিনের এই ঝটিকা সফরের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ রয়েছে— জ্বালানি তেল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি।

চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্রেতা এবং রুশ তেলের প্রধান বাজার। গত সপ্তাহে চীন সফর শেষে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া তাদের তেলের এই বিশাল বাজারটি কোনোভাবেই হারাতে চায় না।

সফরে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী দিনে বেইজিংকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় দেখতে চায় ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ বা কৌশল কী হতে যাচ্ছে, তা সরাসরি শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে জানাও পুতিনের এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘদিনের দুই ‘পরম বন্ধু’ শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের এই বৈঠক বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ভ্লাদিমির পুতিন, শি জিনপিং, চীন সফর, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জ্বালানি তেল রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ভূ-রাজনীতি ২০২৬ Vladimir Putin, Xi Jinping, Putin China visit, Russia-China relations, Donald Trump, Oil politics, Middle East crisis, Geopolitics 2026

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে গেলেন পুতিন

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে গিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

গতকাল (১৯ মে) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে পুতিনকে বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজটি বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর উচ্চপর্যায়ের সফরকারী দলকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এর আগে গত ১৩ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক ব্যান্ডের অভিবাদন ও তরুণ-তরুণীদের স্লোগানে মুখরিত জমকালো অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল; পুতিনের বেলাতেও বেইজিং বিমানবন্দরে ঠিক একই ধরনের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিনের এই সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়:

“আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করাই প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।”

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর দূরত্ব তৈরি হলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অভূতপূর্বভাবে গভীর হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াউনের মতে, বর্তমান বিশ্বে চীন ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক সবচেয়ে ‘সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উদাহরণ।

চীনে পৌঁছানোর আগে দেশটির জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ‘অভাবনীয় উচ্চতায়’ পৌঁছেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ‘এশিয়া সোসাইটি’র কর্মকর্তা লায়েল মরিস মনে করেন, পুতিনের এই ঝটিকা সফরের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ রয়েছে— জ্বালানি তেল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি।

চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্রেতা এবং রুশ তেলের প্রধান বাজার। গত সপ্তাহে চীন সফর শেষে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া তাদের তেলের এই বিশাল বাজারটি কোনোভাবেই হারাতে চায় না।

সফরে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী দিনে বেইজিংকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় দেখতে চায় ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ বা কৌশল কী হতে যাচ্ছে, তা সরাসরি শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে জানাও পুতিনের এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘদিনের দুই ‘পরম বন্ধু’ শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের এই বৈঠক বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত