মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই চুক্তির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ইরানি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একেবারে দ্বারপ্রান্তে আছেন তারা।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া মাত্রই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থাকা নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান কোনো প্রকার টোল বা ফি ছাড়াই হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করতে দেবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর তিন পক্ষের মধ্যে টানা ৪০ দিন তীব্র যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে।
ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হবে। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের জব্দ বা ফ্রিজ করে রাখা অর্থের মধ্য থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছেড়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ইরানও সাফ জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনায় ইউরেনিয়াম নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) একটি সূত্র দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের ব্যবস্থাপনার মধ্যেই থাকবে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘অপূর্ণাঙ্গ এবং অবাস্তব’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি ভিত্তিতে তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং চুক্তির ভেতরের তথ্য জানতে তারা পুরোপুরি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
ইতিমধ্যে এই চুক্তি নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প, যার সবাই ট্রাম্পকে এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও ট্রাম্পের কথা বলার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই চুক্তির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ইরানি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একেবারে দ্বারপ্রান্তে আছেন তারা।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া মাত্রই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থাকা নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান কোনো প্রকার টোল বা ফি ছাড়াই হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করতে দেবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর তিন পক্ষের মধ্যে টানা ৪০ দিন তীব্র যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে।
ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হবে। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের জব্দ বা ফ্রিজ করে রাখা অর্থের মধ্য থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছেড়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ইরানও সাফ জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনায় ইউরেনিয়াম নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) একটি সূত্র দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের ব্যবস্থাপনার মধ্যেই থাকবে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘অপূর্ণাঙ্গ এবং অবাস্তব’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি ভিত্তিতে তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং চুক্তির ভেতরের তথ্য জানতে তারা পুরোপুরি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
ইতিমধ্যে এই চুক্তি নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প, যার সবাই ট্রাম্পকে এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও ট্রাম্পের কথা বলার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন