নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লেবানন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মতি, শর্তসাপেক্ষে অগ্রগতি

লেবানন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মতি, শর্তসাপেক্ষে অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত

লেবানন ও ইসরায়েল একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (United States Department of State)। ওয়াশিংটনের বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হলেও জানানো হয়েছে, চুক্তিটি কার্যকর হবে একাধিক কঠোর শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করে।


চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো— ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় সংগঠনটির সব যোদ্ধা ও সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে না—এ বিষয়ে সব পক্ষই একমত হয়েছে। এতে লেবাননের সার্বভৌম সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, লিতানি নদী থেকে শুরু করে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবানন এলাকায় হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে হবে। ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী (LAF) একক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ‘পাইলট জোন’ তৈরিতে সহায়তা করবে, যেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।


এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পেছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে Marco Rubio-এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন কূটনৈতিক মহল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনা লেবাননকে হিজবুল্লাহ প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করার পথ তৈরি করতে পারে।


এর আগে গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণহানি এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকজন প্যারামেডিকসহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা সীমান্ত অতিক্রমকারী রকেট ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।


এদিকে যুদ্ধবিরতির আংশিক শর্ত অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখবে এবং ইসরায়েলও বৈরুতের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা থেকে বিরত থাকবে—এমন একটি সমঝোতা আগেই হয়েছিল বলে লেবানন সরকার জানিয়েছে।


তবে নতুন চুক্তি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি Hezbollah। সংগঠনটির একাংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত তাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়।


আগামী ২২ জুন দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকই নির্ধারণ করবে—দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে নাকি আবারও সংঘাতের দিকে এগোবে মধ্যপ্রাচ্য। সূত্র: বিবিসি।

বিষয় : লেবানন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি শর্তসাপেক্ষে অগ্রগতি Hezbollah লেবানন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মতি, শর্তসাপেক্ষে অগ্রগতি LAF United States Department of State

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


লেবানন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মতি, শর্তসাপেক্ষে অগ্রগতি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

লেবানন ও ইসরায়েল একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (United States Department of State)। ওয়াশিংটনের বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হলেও জানানো হয়েছে, চুক্তিটি কার্যকর হবে একাধিক কঠোর শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করে।


চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো— ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় সংগঠনটির সব যোদ্ধা ও সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে না—এ বিষয়ে সব পক্ষই একমত হয়েছে। এতে লেবাননের সার্বভৌম সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, লিতানি নদী থেকে শুরু করে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবানন এলাকায় হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে হবে। ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী (LAF) একক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ‘পাইলট জোন’ তৈরিতে সহায়তা করবে, যেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।


এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পেছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে Marco Rubio-এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন কূটনৈতিক মহল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনা লেবাননকে হিজবুল্লাহ প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করার পথ তৈরি করতে পারে।


এর আগে গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণহানি এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকজন প্যারামেডিকসহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা সীমান্ত অতিক্রমকারী রকেট ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।


এদিকে যুদ্ধবিরতির আংশিক শর্ত অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখবে এবং ইসরায়েলও বৈরুতের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা থেকে বিরত থাকবে—এমন একটি সমঝোতা আগেই হয়েছিল বলে লেবানন সরকার জানিয়েছে।


তবে নতুন চুক্তি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি Hezbollah। সংগঠনটির একাংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত তাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়।


আগামী ২২ জুন দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকই নির্ধারণ করবে—দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে নাকি আবারও সংঘাতের দিকে এগোবে মধ্যপ্রাচ্য। সূত্র: বিবিসি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত