চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ফটিকছড়ির এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্ট্রোকজনিত কারণে বা সিঁড়ি থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশে একটি বাড়ির উঠান থেকে রাশেদ (৪০) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া সাহেব বাড়ির প্রয়াত বদরুদ্দোজার ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই রাশেদ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং মাঝে-মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো রংমিস্ত্রি আবার কখনো রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের চাচা আবদুল মাবুদ সাংবাদিকদের বলেন:
“রাশেদ তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গভীর রাতে সে ওই বাড়িতে পৌঁছালে মানসিক অবস্থার কারণে ঘরের লোকজন দরজা খুলে দেয়নি। বিষয়টি রাশেদ মোবাইল ফোনে আমাদেরও জানিয়েছিল। পরে সকালে জানতে পারি তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যেহেতু সে রাতে বাইরে অবস্থান করছিল, তাই আমাদের সন্দেহ স্থানীয় কেউ তাকে ডাকাত ভেবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।”
একই ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করে ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, রাশেদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও বীমাকর্মী আবুল কাশেম হিরু জানান, সকালে বাড়ির উঠানে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান:
“ফটিকছড়ির ওই ব্যক্তি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উরকিরচরে তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘরের লোকজন দরজা খোলেননি। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। শরীরে আঘাতের চিহ্নের ব্যাপারে বলতে গেলে, ঘরের সামনে থাকা সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে তার মুখে আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই রাশেদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ফটিকছড়ির এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্ট্রোকজনিত কারণে বা সিঁড়ি থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশে একটি বাড়ির উঠান থেকে রাশেদ (৪০) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া সাহেব বাড়ির প্রয়াত বদরুদ্দোজার ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই রাশেদ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং মাঝে-মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো রংমিস্ত্রি আবার কখনো রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের চাচা আবদুল মাবুদ সাংবাদিকদের বলেন:
“রাশেদ তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গভীর রাতে সে ওই বাড়িতে পৌঁছালে মানসিক অবস্থার কারণে ঘরের লোকজন দরজা খুলে দেয়নি। বিষয়টি রাশেদ মোবাইল ফোনে আমাদেরও জানিয়েছিল। পরে সকালে জানতে পারি তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যেহেতু সে রাতে বাইরে অবস্থান করছিল, তাই আমাদের সন্দেহ স্থানীয় কেউ তাকে ডাকাত ভেবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।”
একই ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করে ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, রাশেদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও বীমাকর্মী আবুল কাশেম হিরু জানান, সকালে বাড়ির উঠানে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান:
“ফটিকছড়ির ওই ব্যক্তি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উরকিরচরে তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘরের লোকজন দরজা খোলেননি। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। শরীরে আঘাতের চিহ্নের ব্যাপারে বলতে গেলে, ঘরের সামনে থাকা সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে তার মুখে আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই রাশেদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন