নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সুগন্ধি আসছে, স্বপ্নে বলেছেন বেঁচে আছেন— তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

সুগন্ধি আসছে, স্বপ্নে বলেছেন বেঁচে আছেন—  তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

ভোলার সদর উপজেলায় অলৌকিক বিশ্বাসের জেরে মৃত্যুর ১৮ দিন পর এক তরুণীর কবর খোঁড়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটির একটি গোছানো ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

ভোলার সদর উপজেলায় কবরের ভেতর মেয়ে জীবিত আছেন—এমন অলৌকিক বিশ্বাস ও স্বপ্নের জেরে মৃত্যুর ১৮ দিন পর মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন তার স্বজনরা। তবে কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় অলৌকিক দাবিটি সম্পূর্ণ গুজব ছিল এবং মরদেহটিতে স্বাভাবিক নিয়মেই পচন ধরেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) বিকেলে। ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়ি।

দিনমজুর খলিল লাহারির মেয়ে মরিয়ম চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

গত ২৬ মে কোরবানির ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঈদের দিন (২৮ মে) ভোরে মারা যান। ওই দিনই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের কয়েকদিন পর থেকেই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মরিয়মের কবর থেকে "সুগন্ধি" বের হচ্ছে।

এর মধ্যে মরিয়মের একমাত্র ভাই ও ছোট বোন স্বপ্নে দেখেন যে মরিয়ম কবরের ভেতর জীবিত আছেন এবং তাকে ভুল করে জীবিত দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয় আলেমরা একে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিলেও এবং পুলিশ আদালতের অনুমতি নিতে বললেও স্বজনরা তা অমান্য করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় প্রায় ৩০০–৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসুক স্বজনরা কবরটি খুঁড়ে ফেলেন।

কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। কোনো সুগন্ধিও পাওয়া যায়নি। এরপর স্বজনরা পুনরায় কবরটি আগের মতো মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন।

মরিয়মের পরিবার পরে গণমাধ্যমকে জানান, মূলত নিজেদের "সন্দেহ দূর করার জন্য" তারা কবরটি খুঁড়েছিলেন এবং এখন তাদের সন্দেহ দূর হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান:

"স্বজনরা আগে থানায় এসে সুগন্ধি ও স্বপ্নের কথা জানালে তাদের আদালতের অনুমতি নিয়ে কবর খুঁড়তে বলা হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কবর খোঁড়ার এই বিষয়টি পুলিশকে আগে অবহিত করা হয়নি।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ভোলা সংবাদ, কবর খোঁড়া, অলৌকিক গুজব, সুগন্ধির গুজব, ভোলা পুলিশ, ভেলুমিয়া ইউনিয়ন, চাঞ্চল্যকর ঘটনা Bhola News, Grave Exhumed, Rumor of Fragrance, Dream Mystery, Bhola Police, Velumia Union, Sensational Incident

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুগন্ধি আসছে, স্বপ্নে বলেছেন বেঁচে আছেন— তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

ভোলার সদর উপজেলায় অলৌকিক বিশ্বাসের জেরে মৃত্যুর ১৮ দিন পর এক তরুণীর কবর খোঁড়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটির একটি গোছানো ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

ভোলার সদর উপজেলায় কবরের ভেতর মেয়ে জীবিত আছেন—এমন অলৌকিক বিশ্বাস ও স্বপ্নের জেরে মৃত্যুর ১৮ দিন পর মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন তার স্বজনরা। তবে কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় অলৌকিক দাবিটি সম্পূর্ণ গুজব ছিল এবং মরদেহটিতে স্বাভাবিক নিয়মেই পচন ধরেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) বিকেলে। ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়ি।

দিনমজুর খলিল লাহারির মেয়ে মরিয়ম চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

গত ২৬ মে কোরবানির ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঈদের দিন (২৮ মে) ভোরে মারা যান। ওই দিনই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের কয়েকদিন পর থেকেই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মরিয়মের কবর থেকে "সুগন্ধি" বের হচ্ছে।

এর মধ্যে মরিয়মের একমাত্র ভাই ও ছোট বোন স্বপ্নে দেখেন যে মরিয়ম কবরের ভেতর জীবিত আছেন এবং তাকে ভুল করে জীবিত দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয় আলেমরা একে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিলেও এবং পুলিশ আদালতের অনুমতি নিতে বললেও স্বজনরা তা অমান্য করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় প্রায় ৩০০–৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসুক স্বজনরা কবরটি খুঁড়ে ফেলেন।

কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। কোনো সুগন্ধিও পাওয়া যায়নি। এরপর স্বজনরা পুনরায় কবরটি আগের মতো মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন।

মরিয়মের পরিবার পরে গণমাধ্যমকে জানান, মূলত নিজেদের "সন্দেহ দূর করার জন্য" তারা কবরটি খুঁড়েছিলেন এবং এখন তাদের সন্দেহ দূর হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান:

"স্বজনরা আগে থানায় এসে সুগন্ধি ও স্বপ্নের কথা জানালে তাদের আদালতের অনুমতি নিয়ে কবর খুঁড়তে বলা হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কবর খোঁড়ার এই বিষয়টি পুলিশকে আগে অবহিত করা হয়নি।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত