কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে নৌ-ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এক জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর হাওরে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌকা ও ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সম্প্রতি মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টার পর মিঠামইন ঘাট থেকে কোনো যাত্রীবাহী নৌকা বা ট্রলার অন্য কোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারবে না। এই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই বিজ্ঞপ্তিতে মিঠামইন থেকে করিমগঞ্জের বালিখলা ও চামড়া বন্দরগামী নৌপরিবহনের ভাড়াও নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে জেলার মিঠামইন ও করিমগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় একটি পর্যটকবাহী ট্রলারে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৪০ জন পর্যটক হাওর ভ্রমণ শেষে রাতে মিঠামইন থেকে বালিখোলা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ট্রলারটি হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ডাকাত ট্রলারে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তারা পর্যটকদের মারধর করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইসমাইল হোসেন নামে এক স্থানীয় যুবক বলেন, "এই বর্ষাকালে রাতে যদি কোনো বৃদ্ধ মানুষ অসুস্থ হন বা কোনো প্রসূতি নারীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তাদের কোথায় নিয়ে যাব? আমরা চাই হাওরে নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি করে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করা হোক।"
এই বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, "উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নৌকার মাঝিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগেও কার্যকর ছিল। এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টায় দিনের শেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে।"
মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, "হাওর একটি বিশাল এলাকা এবং সন্ধ্যার পর এখানকার নৌপথ পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না। মাঝেমধ্যেই এখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে এবং সম্প্রতি একটি বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কিশোরগঞ্জ, হাওর, নৌ-ডাকাতি, মিঠামইন, বালিখোলা ঘাট, নৌকা চলাচল বন্ধ, পর্যটকবাহী ট্রলার, এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক, হাওর পর্যটন, নৌ-নিরাপত্তা Kishoreganj Haor, Haor Robbery, Mithamoin, Boat Movement Restricted, Balikhola Ghat, Haor Tourism Bangladesh, Passenger Boat Ban, Bangladesh Police, Security in Haor

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে নৌ-ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এক জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর হাওরে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌকা ও ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সম্প্রতি মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টার পর মিঠামইন ঘাট থেকে কোনো যাত্রীবাহী নৌকা বা ট্রলার অন্য কোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারবে না। এই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই বিজ্ঞপ্তিতে মিঠামইন থেকে করিমগঞ্জের বালিখলা ও চামড়া বন্দরগামী নৌপরিবহনের ভাড়াও নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে জেলার মিঠামইন ও করিমগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় একটি পর্যটকবাহী ট্রলারে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৪০ জন পর্যটক হাওর ভ্রমণ শেষে রাতে মিঠামইন থেকে বালিখোলা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ট্রলারটি হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ডাকাত ট্রলারে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তারা পর্যটকদের মারধর করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইসমাইল হোসেন নামে এক স্থানীয় যুবক বলেন, "এই বর্ষাকালে রাতে যদি কোনো বৃদ্ধ মানুষ অসুস্থ হন বা কোনো প্রসূতি নারীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তাদের কোথায় নিয়ে যাব? আমরা চাই হাওরে নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি করে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করা হোক।"
এই বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, "উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নৌকার মাঝিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগেও কার্যকর ছিল। এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টায় দিনের শেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে।"
মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, "হাওর একটি বিশাল এলাকা এবং সন্ধ্যার পর এখানকার নৌপথ পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না। মাঝেমধ্যেই এখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে এবং সম্প্রতি একটি বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন