হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন আলুচাষিরা। এ সময় ক্ষুব্ধ চাষিরা সড়কে আলু ফেলে অভিনব প্রতিবাদ জানান।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক আলুচাষি অংশ নেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভ্যাপসা গরমে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ চাষিরা অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকরা যোগসাজশ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে সংরক্ষণ ভাড়া অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছেন।
চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। উত্তোলন ও পরিবহন ব্যয়সহ তা দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৩৩ পয়সায়।
হিমাগার মালিকরা বস্তাপ্রতি (৬০ কেজি) সংরক্ষণ ভাড়া ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করায় প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ টাকা খরচ যুক্ত হচ্ছে।
হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজি আলুর মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা দরে। এর ফলে চাষিদের প্রতি কেজিতে প্রায় সাড়ে ৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
"মুন্সিগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর হিমাগার ভাড়া যেখানে ২৮০ টাকা, সেখানে রংপুর বিভাগে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির নিজস্ব ১০টির বেশি কোল্ড স্টোরেজ থাকায় তিনি পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেটের আওতায় রেখেছেন।"
— তৈয়বুর রহমান, সভাপতি, জেলা আলুচাষি সমিতি
চাষিরা আলুর হিমাগার সংরক্ষণ ভাড়া সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবি জানান।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন:
"এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার পরিবর্তে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। যারা এসব আন্দোলন করছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি কোনো হিমাগার মালিক নিলে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক।"
কর্মসূচিতে জেলা আলুচাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাতসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। চাষিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভাড়া কমানো না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, দুপুর ১টায় আন্দোলনকারীরা আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ স্থগিত করেন। এরপর তাজহাট থানা ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় দুপুর দেড়টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন চাষিরা।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ রংপুর news, আলুচাষিদের বিক্ষোভ, হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি, রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ, কোল্ড স্টোরেজ সিন্ডিকেট, আলুর দাম, উত্তরবঙ্গের কৃষি, মডার্ন মোড় রংপুর Rangpur news, potato farmers protest, cold storage rent hike, Rangpur Dhaka highway blockade, potato price Bangladesh, agriculture crisis, Modern Mor Rangpur

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন আলুচাষিরা। এ সময় ক্ষুব্ধ চাষিরা সড়কে আলু ফেলে অভিনব প্রতিবাদ জানান।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক আলুচাষি অংশ নেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভ্যাপসা গরমে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ চাষিরা অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকরা যোগসাজশ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে সংরক্ষণ ভাড়া অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছেন।
চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। উত্তোলন ও পরিবহন ব্যয়সহ তা দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৩৩ পয়সায়।
হিমাগার মালিকরা বস্তাপ্রতি (৬০ কেজি) সংরক্ষণ ভাড়া ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করায় প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ টাকা খরচ যুক্ত হচ্ছে।
হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজি আলুর মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা দরে। এর ফলে চাষিদের প্রতি কেজিতে প্রায় সাড়ে ৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
"মুন্সিগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর হিমাগার ভাড়া যেখানে ২৮০ টাকা, সেখানে রংপুর বিভাগে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির নিজস্ব ১০টির বেশি কোল্ড স্টোরেজ থাকায় তিনি পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেটের আওতায় রেখেছেন।"
— তৈয়বুর রহমান, সভাপতি, জেলা আলুচাষি সমিতি
চাষিরা আলুর হিমাগার সংরক্ষণ ভাড়া সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবি জানান।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন:
"এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার পরিবর্তে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। যারা এসব আন্দোলন করছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি কোনো হিমাগার মালিক নিলে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক।"
কর্মসূচিতে জেলা আলুচাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাতসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। চাষিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভাড়া কমানো না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, দুপুর ১টায় আন্দোলনকারীরা আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ স্থগিত করেন। এরপর তাজহাট থানা ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় দুপুর দেড়টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন চাষিরা।

আপনার মতামত লিখুন