ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার বাগানগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি।
এর ফলে ক্ষতিকর কীটনাশক, পোকামাকড় ও বৈরী আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আম সুরক্ষিত থাকছে।দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও মেহেরপুরের হিমসাগর আমের ব্যাপক চাহিদা ও সুনাম থাকায় চলতি মৌসুমে বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানির জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষি ও বাগান মালিকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে হিমসাগর, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌরমতি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬০ থেকে ১৭০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে শুধু হিমসাগর আমের বাগানই রয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। এসব বাগান থেকে প্রায় ২৪ হাজার টন হিমসাগর আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও পুষ্টিগুণের কারণে প্রতিবছরই মেহেরপুরে হিমসাগর আম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। গত কয়েক বছর ধরে এই জেলার আম ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী চাষিরা নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগিংসহ বিভিন্ন উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।
মেহেরপুরের গ্যাপ (GAP) সনদপ্রাপ্ত আমচাষি শাহিনুজ্জামান বলেন,
"আমি প্রতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করি। মাসখানেক আগে বিদেশি ক্রেতারা এসে আম উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তাদের নির্দেশনা মেনেই আম প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বছরও ৫ থেকে ৭ টন হিমসাগর আম রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।"
ঝাওবাড়িয়া গ্রামের আমচাষি সাহাবুদ্দিন ও সুবিদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহারের ফলে আম বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায় এবং সম্পূর্ণ বিষমুক্ত থাকে। এর ফলে ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি এবং এশিয়ার চীন ও জাপানের মতো দেশের বায়ারদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত আম সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের বাজারেও এই আমের কদর দিন দিন বাড়ছে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, জিআই স্বীকৃত মেহেরপুরের হিমসাগর আম এখন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
মানসম্মত উৎপাদন ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে মেহেরপুরের আম রপ্তানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরাও অধিক লাভবান হবেন।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার বাগানগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি।
এর ফলে ক্ষতিকর কীটনাশক, পোকামাকড় ও বৈরী আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আম সুরক্ষিত থাকছে।দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও মেহেরপুরের হিমসাগর আমের ব্যাপক চাহিদা ও সুনাম থাকায় চলতি মৌসুমে বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানির জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষি ও বাগান মালিকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে হিমসাগর, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌরমতি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬০ থেকে ১৭০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে শুধু হিমসাগর আমের বাগানই রয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। এসব বাগান থেকে প্রায় ২৪ হাজার টন হিমসাগর আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও পুষ্টিগুণের কারণে প্রতিবছরই মেহেরপুরে হিমসাগর আম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। গত কয়েক বছর ধরে এই জেলার আম ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী চাষিরা নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগিংসহ বিভিন্ন উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।
মেহেরপুরের গ্যাপ (GAP) সনদপ্রাপ্ত আমচাষি শাহিনুজ্জামান বলেন,
"আমি প্রতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করি। মাসখানেক আগে বিদেশি ক্রেতারা এসে আম উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তাদের নির্দেশনা মেনেই আম প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বছরও ৫ থেকে ৭ টন হিমসাগর আম রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।"
ঝাওবাড়িয়া গ্রামের আমচাষি সাহাবুদ্দিন ও সুবিদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহারের ফলে আম বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায় এবং সম্পূর্ণ বিষমুক্ত থাকে। এর ফলে ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি এবং এশিয়ার চীন ও জাপানের মতো দেশের বায়ারদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত আম সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের বাজারেও এই আমের কদর দিন দিন বাড়ছে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, জিআই স্বীকৃত মেহেরপুরের হিমসাগর আম এখন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
মানসম্মত উৎপাদন ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে মেহেরপুরের আম রপ্তানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরাও অধিক লাভবান হবেন।

আপনার মতামত লিখুন