কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে সাড়ে ১০ শতক জমি হেবা দলিলমূলে নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পাষণ্ড ছেলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি বুঝতে পেরে এখন জমি ফেরত পাওয়ার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা আবদুল জব্বার।
উপজেলার এগারোসিন্দুর ইউনিয়নের তালদর্শী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। জমি ফেরত চাইলে উল্টো ওই বৃদ্ধ বাবাকে বাড়িছাড়া ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে তারই ছেলে মোহর উদ্দিন। এর প্রতিকার চেয়ে গত সোমবার (১৬ জুন ২০২৬) ছেলের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধ।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছেন বৃদ্ধ আবদুল জব্বার। তার এই অসুস্থতার সুযোগ নেন দ্বিতীয় ছেলে মোহর উদ্দিন।
বৃদ্ধ আবদুল জব্বার দাবি করেন, চিকিৎসার কথা বলে তার দ্বিতীয় ছেলে মোহর উদ্দিন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করেন। কিন্তু হাসপাতালে না নিয়ে কৌশলে তাকে পাকুন্দিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অজান্তে ও সরলতার সুযোগ নিয়ে সম্পূর্ণ প্রতারণার মাধ্যমে সাড়ে ১০ শতক জমি হেবা দলিলে নিজের নামে লিখে নেন মোহর উদ্দিন। পরে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি জানতে পেরে জমি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন বাবা। কিন্তু জমি ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে বৃদ্ধ বাবাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে বৃদ্ধের বড় ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, জমি প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু মোহর উদ্দিন কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি, ফলে কোনো সমাধানও হয়নি। উল্টো সালিশে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোহর উদ্দিন তার বাবা ও বড় ভাইকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে মোহর উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "বাবা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আমার নামে জমি লিখে দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে থানায় আনা অভিযোগ সত্য নয়।"
পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বৃদ্ধ আবদুল জব্বারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কিশোরগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, জমি প্রতারণা, হেবা দলিল, বৃদ্ধ বাবা, পাকুন্দিয়া থানা, ও এস এম আরিফুর রহমান, পারিবারিক বিরোধ, অপরাধ সংবাদ, আঞ্চলিক খবর কিশোরগঞ্জ Kishoreganj, Pakundia, Land Fraud, Heba Deed, Elderly Father, Pakundia Thana, Land Dispute, Crime News Kishoreganj, Local News Bangladesh

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে সাড়ে ১০ শতক জমি হেবা দলিলমূলে নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পাষণ্ড ছেলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি বুঝতে পেরে এখন জমি ফেরত পাওয়ার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা আবদুল জব্বার।
উপজেলার এগারোসিন্দুর ইউনিয়নের তালদর্শী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। জমি ফেরত চাইলে উল্টো ওই বৃদ্ধ বাবাকে বাড়িছাড়া ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে তারই ছেলে মোহর উদ্দিন। এর প্রতিকার চেয়ে গত সোমবার (১৬ জুন ২০২৬) ছেলের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধ।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছেন বৃদ্ধ আবদুল জব্বার। তার এই অসুস্থতার সুযোগ নেন দ্বিতীয় ছেলে মোহর উদ্দিন।
বৃদ্ধ আবদুল জব্বার দাবি করেন, চিকিৎসার কথা বলে তার দ্বিতীয় ছেলে মোহর উদ্দিন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করেন। কিন্তু হাসপাতালে না নিয়ে কৌশলে তাকে পাকুন্দিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অজান্তে ও সরলতার সুযোগ নিয়ে সম্পূর্ণ প্রতারণার মাধ্যমে সাড়ে ১০ শতক জমি হেবা দলিলে নিজের নামে লিখে নেন মোহর উদ্দিন। পরে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি জানতে পেরে জমি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন বাবা। কিন্তু জমি ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে বৃদ্ধ বাবাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে বৃদ্ধের বড় ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, জমি প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু মোহর উদ্দিন কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি, ফলে কোনো সমাধানও হয়নি। উল্টো সালিশে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোহর উদ্দিন তার বাবা ও বড় ভাইকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে মোহর উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "বাবা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আমার নামে জমি লিখে দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে থানায় আনা অভিযোগ সত্য নয়।"
পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বৃদ্ধ আবদুল জব্বারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন