মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার শ্যামলী হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত ইলিয়াছ মোল্লা উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কোলা গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক ছিলেন। এই ঘটনায় অপর আহত ইসহাক মোল্লা (৭০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মন্তাজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে ইসহাক মোল্লাদের সঙ্গে একই গ্রামের সিদ্দিক মোল্লা (৭০), তার ছেলে বিপ্লব মোল্লা (৩৫) ও স্ত্রী রওশনারা বেগমের (৫৫) বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জেরে গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কোলা অটো স্ট্যান্ডের সামনে সিদ্দিক মোল্লা ও তার স্ত্রী রওশনারা বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইসহাক মোল্লা ও ইলিয়াস মোল্লার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাত-পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে মোঃ ইলিয়াছ মোল্লার অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে শ্যামলী হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য রওশনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সিরাজদীখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, "আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনার সাথে জড়িত এবং অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ সিরাজদীখান নিউজ, মুন্সিগঞ্জ সংবাদ, কোলা ইউনিয়ন, সংঘর্ষে নিহত, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, সিরাজদীখান থানা পুলিশ, ইলিয়াছ মোল্লা নিহত, রওশনারা বেগম, মারামারি, স্থানীয় অপরাধ Sirajdikhan news, Munshiganj news, Kola Union, Murder case Munshiganj, Land dispute clash, Sirajdikhan Police, Ilyas critical death, Local crime Bangladesh

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার শ্যামলী হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত ইলিয়াছ মোল্লা উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কোলা গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক ছিলেন। এই ঘটনায় অপর আহত ইসহাক মোল্লা (৭০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মন্তাজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে ইসহাক মোল্লাদের সঙ্গে একই গ্রামের সিদ্দিক মোল্লা (৭০), তার ছেলে বিপ্লব মোল্লা (৩৫) ও স্ত্রী রওশনারা বেগমের (৫৫) বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জেরে গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কোলা অটো স্ট্যান্ডের সামনে সিদ্দিক মোল্লা ও তার স্ত্রী রওশনারা বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইসহাক মোল্লা ও ইলিয়াস মোল্লার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাত-পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে মোঃ ইলিয়াছ মোল্লার অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে শ্যামলী হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য রওশনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সিরাজদীখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, "আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনার সাথে জড়িত এবং অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন