নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২১ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের পিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের পিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পিটুনিতে অসুস্থ হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ওই যুবককে আটক করে ডিবি। 

পরিবারের দাবি, আটকের সময় বর্বর নির্যাতন করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ নির্যাতনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

মৃত যুবকের নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মৃত এসকেন হায়দারের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে এসে ইশতিয়াককে আটক করে।

ইশতিয়াকের মামা মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন:

"আটকের সময় ডিবির ১২-১৩ জন সদস্য প্রান্তকে বেধড়ক মারধর করেন। তার মা বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এরপর পুলিশ বাড়িতে ঢুকে প্রতিটি কক্ষ তছনছ করে এবং প্রান্তকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।"

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আটকের সময় আমার ছেলের কাছে বা বাড়িতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তিন পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে বলে শুনেছি। কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো? আমি এই হত্যার বিচার চাই।"

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতভর মধুখালী থানা ও ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তারা ইশতিয়াকের কোনো খোঁজ পাননি। পরে আজ রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর পান।

ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মো. আহাদুজ্জামান ও এসআই মো. মোতাহার আলীর নেতৃত্বে এই অভিযানে অংশ নেন, এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মনিরুজ্জামান, ফরহাদ হোসেন মিয়া, রাকিব মোল্লা সুফিয়ান ও রকিবুল ইসলাম, নারী কনস্টেবল চম্পা হালদার, গাড়িচালক মো. সবুজ মোল্লা

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, "গতকাল সন্ধ্যায় মাদকসহ ইশতিয়াককে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং নাস্তা গ্রহণ করেন। ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।" আটকাবস্থায় কোনো মারধর করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ তার সাথে অত্যন্ত সুন্দর ব্যবহার করেছে।

এদিকে মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, এই ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

ফরিদপুরের পুলিশ... সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান:

"মাদকসহ আটক ইশতিয়াককে পুলিশ হেফাজতে রাখা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি—মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেন স্ট্রোক) কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। 

পুলিশের হেফাজতে তাকে আঘাত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারপরও পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ফরিদপুর, মধুখালী, ডিবি পুলিশ, পুলিশ হেফাজত, যুবকের মৃত্যু, মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ, নির্যাতন, মাদক মামলা, পুলিশ সুপার, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল Faridpur, Madhukhali, DB Police, Custodial Death, Youth Dies, Mirza Ishtiaque Ahmed, Police Torture Allegation, Drug Case, Police Superintendent, Faridpur Medical College Hospital

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের পিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পিটুনিতে অসুস্থ হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ওই যুবককে আটক করে ডিবি। 

পরিবারের দাবি, আটকের সময় বর্বর নির্যাতন করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ নির্যাতনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

মৃত যুবকের নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মৃত এসকেন হায়দারের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে এসে ইশতিয়াককে আটক করে।

ইশতিয়াকের মামা মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন:

"আটকের সময় ডিবির ১২-১৩ জন সদস্য প্রান্তকে বেধড়ক মারধর করেন। তার মা বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এরপর পুলিশ বাড়িতে ঢুকে প্রতিটি কক্ষ তছনছ করে এবং প্রান্তকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।"

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আটকের সময় আমার ছেলের কাছে বা বাড়িতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তিন পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে বলে শুনেছি। কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো? আমি এই হত্যার বিচার চাই।"

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতভর মধুখালী থানা ও ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তারা ইশতিয়াকের কোনো খোঁজ পাননি। পরে আজ রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর পান।

ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মো. আহাদুজ্জামান ও এসআই মো. মোতাহার আলীর নেতৃত্বে এই অভিযানে অংশ নেন, এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মনিরুজ্জামান, ফরহাদ হোসেন মিয়া, রাকিব মোল্লা সুফিয়ান ও রকিবুল ইসলাম, নারী কনস্টেবল চম্পা হালদার, গাড়িচালক মো. সবুজ মোল্লা

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, "গতকাল সন্ধ্যায় মাদকসহ ইশতিয়াককে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং নাস্তা গ্রহণ করেন। ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।" আটকাবস্থায় কোনো মারধর করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ তার সাথে অত্যন্ত সুন্দর ব্যবহার করেছে।

এদিকে মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, এই ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

ফরিদপুরের পুলিশ... সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান:

"মাদকসহ আটক ইশতিয়াককে পুলিশ হেফাজতে রাখা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি—মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেন স্ট্রোক) কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। 

পুলিশের হেফাজতে তাকে আঘাত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারপরও পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত