নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থীকে হত্যার পর কাপড়ে মুড়িয়ে লাশ গুম করার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার (২১ জুন ২০২৬) পুলিশ কথিত প্রেমিকা প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা বেগম, ছোট বোন মিন্নি আক্তারসহ মোট চারজনকে আটক করেছে।
নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তিনি মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে নানাবাড়ি একই উপজেলার বাহেরচর গ্রামে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকার জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওয়ালিদ। এ ঘটনায় প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা ওয়ালিদের ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিল। এরই জের ধরে সম্প্রতি প্রাণার বিয়ে দেওয়া হয় এক প্রবাসীর সঙ্গে। তবে বিয়ের পরেও প্রাণা প্রেমিক ওয়ালিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছিল।
গত ১৮ জুন রাত থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ওয়ালিদ। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে প্রাণাদের বাড়ির পেছনে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে নিখোঁজ ওয়ালিদের ছোট ভাই রোমানসহ কয়েকজন সেখানে যান এবং লাশটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রেমিকা প্রাণা, তার মা ও দুই বোনকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে প্রাণার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহতের ভাই রোমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন:
“ঘটনার দিন রাতে আমার ভাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলাম। তখন জাকির মিয়ার বাড়ির পেছন থেকে কুকুরের অস্বাভাবিক ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে আমরা সেখানে যাই। গিয়ে দেখি প্রাণা, তার মা ও দুই বোন মিলে কাপড়ে পেঁচিয়ে কিছু একটা ঘর থেকে বের করছে। আমাদের সন্দেহ হলে আমরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তারা বাধা দেয়। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের পেছন থেকে আমার ভাইয়ের লাশ কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। তারা মূলত লাশ গুম করার উদ্দেশে কাপড়ে মুড়িয়ে ঘরের পেছনে নিয়ে যাচ্ছিল।”
রোববার দুপুরে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজিত এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা ঘাতক প্রেমিকা প্রাণার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন:
“প্রেমিকার বাড়ির পেছন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে লাশ দাফনের পর তারা মামলা দায়ের করতে থানায় আসবে। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।”
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নরসিংদী হত্যাকাণ্ড, রায়পুরা, ওয়ালিদ হাসান খুন, প্রেমিকা আটক, লাশ গুমের চেষ্টা, এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা, নরসিংদী অপরাধ, রায়পুরা থানা, বাড়ি ভাঙচুর Narsingdi Murder, Raipura, Walid Hasan Killed, Girlfriend Arrested, Body Concealment, SSC Examinee Murder, Narsingdi Crime, Raipura Thana, House Vandalized

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থীকে হত্যার পর কাপড়ে মুড়িয়ে লাশ গুম করার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার (২১ জুন ২০২৬) পুলিশ কথিত প্রেমিকা প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা বেগম, ছোট বোন মিন্নি আক্তারসহ মোট চারজনকে আটক করেছে।
নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তিনি মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে নানাবাড়ি একই উপজেলার বাহেরচর গ্রামে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকার জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওয়ালিদ। এ ঘটনায় প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা ওয়ালিদের ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিল। এরই জের ধরে সম্প্রতি প্রাণার বিয়ে দেওয়া হয় এক প্রবাসীর সঙ্গে। তবে বিয়ের পরেও প্রাণা প্রেমিক ওয়ালিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছিল।
গত ১৮ জুন রাত থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ওয়ালিদ। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে প্রাণাদের বাড়ির পেছনে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে নিখোঁজ ওয়ালিদের ছোট ভাই রোমানসহ কয়েকজন সেখানে যান এবং লাশটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রেমিকা প্রাণা, তার মা ও দুই বোনকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে প্রাণার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহতের ভাই রোমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন:
“ঘটনার দিন রাতে আমার ভাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলাম। তখন জাকির মিয়ার বাড়ির পেছন থেকে কুকুরের অস্বাভাবিক ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে আমরা সেখানে যাই। গিয়ে দেখি প্রাণা, তার মা ও দুই বোন মিলে কাপড়ে পেঁচিয়ে কিছু একটা ঘর থেকে বের করছে। আমাদের সন্দেহ হলে আমরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তারা বাধা দেয়। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের পেছন থেকে আমার ভাইয়ের লাশ কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। তারা মূলত লাশ গুম করার উদ্দেশে কাপড়ে মুড়িয়ে ঘরের পেছনে নিয়ে যাচ্ছিল।”
রোববার দুপুরে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজিত এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা ঘাতক প্রেমিকা প্রাণার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন:
“প্রেমিকার বাড়ির পেছন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে লাশ দাফনের পর তারা মামলা দায়ের করতে থানায় আসবে। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।”

আপনার মতামত লিখুন