নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

কটিয়াদীর প্রবেশমুখে ময়লার পাহাড়, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

কটিয়াদীর প্রবেশমুখে ময়লার পাহাড়, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পরিকল্পিত ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। ফলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন টনের পর টন বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী সদরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু শহরের প্রবেশমুখেই রাস্তার পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ জমে থাকায় দূর থেকেই নাকে আসে পচা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধ। কটিয়াদীতে আগত মানুষের কাছে শহরের প্রথম দৃশ্যই এখন এই দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার পাহাড়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকায় পরিকল্পিত ও স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এনে এই স্থানে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ টন বা তারও বেশি বর্জ্য এখানে জমা হচ্ছে। নিয়মিত অপসারণ কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনার অভাবে দিন দিন এই স্তূপ আরও বড় আকার ধারণ করছে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। কাঁচাবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুপুরের দিকে রোদ বাড়লে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ীকে নাক-মুখ ঢেকে দোকানে বসতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও বাজারে আসতে চান না। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সারোয়ার নজরবিডিকে বলেন, “রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে প্রতিদিন মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে পথচারীদের নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হয়। ময়লার কারণে রিকশা ও সিএনজি সড়কের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ভুক্তিভোগী পথচারী ও চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের প্রায় তিন ফুট জায়গা দখল করে এই ময়লা ফেলা হচ্ছে। ব্যস্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশ বর্জ্যের দখলে চলে যাওয়ায় রাস্তার কার্যকর প্রস্থ কমে গেছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। 

রিকশাচালক রুবেল ও ট্রাকচালক রেদোয়ান নজরবিডিকে জানান, রাস্তার অর্ধেকটা ময়লার দখলে থাকায় গাড়ি চালানো যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি তীব্র দুর্গন্ধে মুখ ঢেকে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ময়লার স্তূপে মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ময়লার স্তূপের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে, যা মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর প্রশাসক ও কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “পৌরসভা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এত বছরেও স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন হুট করে জায়গা চাইলে তা পাওয়া সহজ নয়। 

এর আগে চুরিয়াকোনা এলাকায় খাস জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা করা যায়নি। পরবর্তীতে সেখানে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আসায় সেই জায়গাটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। 

বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কারণে অধিকাংশ খাস জমি ব্যবহার হয়ে যাওয়ায় উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে জনবসতি থেকে দূরে এবং যাতায়াত সুবিধাজনক এমন নতুন স্থানের সন্ধান চালানো হচ্ছে।”

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি নিয়ে আমি সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে সরাসরি অবহিত করেছি। 

এর আগেও এ বিষয়ে কয়েকবার লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা সড়কের জন্য ক্ষতিকর এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী, ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, কটিয়াদী পৌরসভা, জনদুর্ভোগ, কিশোরগঞ্জ নিউজ Kishoreganj, Katiadi, Dumping Station, Waste Management, Environment Pollution, Health Risk, Katiadi Pourashava, Public Sufferings, Kishoreganj News

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কটিয়াদীর প্রবেশমুখে ময়লার পাহাড়, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পরিকল্পিত ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। ফলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন টনের পর টন বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী সদরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু শহরের প্রবেশমুখেই রাস্তার পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ জমে থাকায় দূর থেকেই নাকে আসে পচা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধ। কটিয়াদীতে আগত মানুষের কাছে শহরের প্রথম দৃশ্যই এখন এই দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার পাহাড়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকায় পরিকল্পিত ও স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এনে এই স্থানে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ টন বা তারও বেশি বর্জ্য এখানে জমা হচ্ছে। নিয়মিত অপসারণ কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনার অভাবে দিন দিন এই স্তূপ আরও বড় আকার ধারণ করছে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। কাঁচাবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুপুরের দিকে রোদ বাড়লে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ীকে নাক-মুখ ঢেকে দোকানে বসতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও বাজারে আসতে চান না। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সারোয়ার নজরবিডিকে বলেন, “রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে প্রতিদিন মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে পথচারীদের নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হয়। ময়লার কারণে রিকশা ও সিএনজি সড়কের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ভুক্তিভোগী পথচারী ও চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের প্রায় তিন ফুট জায়গা দখল করে এই ময়লা ফেলা হচ্ছে। ব্যস্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশ বর্জ্যের দখলে চলে যাওয়ায় রাস্তার কার্যকর প্রস্থ কমে গেছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। 

রিকশাচালক রুবেল ও ট্রাকচালক রেদোয়ান নজরবিডিকে জানান, রাস্তার অর্ধেকটা ময়লার দখলে থাকায় গাড়ি চালানো যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি তীব্র দুর্গন্ধে মুখ ঢেকে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ময়লার স্তূপে মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ময়লার স্তূপের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে, যা মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর প্রশাসক ও কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “পৌরসভা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এত বছরেও স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন হুট করে জায়গা চাইলে তা পাওয়া সহজ নয়। 

এর আগে চুরিয়াকোনা এলাকায় খাস জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা করা যায়নি। পরবর্তীতে সেখানে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আসায় সেই জায়গাটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। 

বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কারণে অধিকাংশ খাস জমি ব্যবহার হয়ে যাওয়ায় উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে জনবসতি থেকে দূরে এবং যাতায়াত সুবিধাজনক এমন নতুন স্থানের সন্ধান চালানো হচ্ছে।”

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি নিয়ে আমি সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে সরাসরি অবহিত করেছি। 

এর আগেও এ বিষয়ে কয়েকবার লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা সড়কের জন্য ক্ষতিকর এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত