লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী। তিনি বলেন, "একে একে চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিল। আমি তো একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না।"
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ভাড়া বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রতিবেশী রানী জানান, ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। শাহিনুর বেগমের বাড়ির জানালা দিয়ে ডাকার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।
কিছুক্ষণ পর তিনি শাহিনুরের ছেলে সিফাত ভেবে একজনকে পাকঘরের দিকে যেতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরেই জানালা বন্ধ করার শব্দ পেয়ে ফিরে তাকিয়ে দেখেন, প্যান্ট হাতে এক যুবক বেরিয়ে আসছে। ওই যুবক নিজেকে ‘পাইপলাইন মিস্ত্রি’ পরিচয় দিলেও হাতে থাকা প্যান্ট দেখে রানীর সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাইরে থেকে গেট আটকে প্রতিবেশীদের ডাক দেন।
প্রতিবেশীরা বাসায় ঢুকে মেঝেতে চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঘাতক পালানোর জন্য ছাদে উঠে পড়লে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনিতে সে নিহত হয়।
নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। শাহিনুরের স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তাদের একমাত্র ছেলে সিফাত বর্তমানে বাকরুদ্ধ অবস্থায় শোকাতুর।
গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক অন্তরের (২৮) বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। স্থানীয়রা জানান, সে আগে ওই ভবনেই ভাড়া থাকত এবং এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিল।
আফরোজা বেগম রানী বলেন, "শাহিনুর ভালো মানুষ ছিলেন, তার ছেলে-মেয়েরাও মেধাবী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি তাদের কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না।"
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী। তিনি বলেন, "একে একে চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিল। আমি তো একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না।"
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ভাড়া বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রতিবেশী রানী জানান, ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। শাহিনুর বেগমের বাড়ির জানালা দিয়ে ডাকার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।
কিছুক্ষণ পর তিনি শাহিনুরের ছেলে সিফাত ভেবে একজনকে পাকঘরের দিকে যেতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরেই জানালা বন্ধ করার শব্দ পেয়ে ফিরে তাকিয়ে দেখেন, প্যান্ট হাতে এক যুবক বেরিয়ে আসছে। ওই যুবক নিজেকে ‘পাইপলাইন মিস্ত্রি’ পরিচয় দিলেও হাতে থাকা প্যান্ট দেখে রানীর সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাইরে থেকে গেট আটকে প্রতিবেশীদের ডাক দেন।
প্রতিবেশীরা বাসায় ঢুকে মেঝেতে চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঘাতক পালানোর জন্য ছাদে উঠে পড়লে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনিতে সে নিহত হয়।
নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। শাহিনুরের স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তাদের একমাত্র ছেলে সিফাত বর্তমানে বাকরুদ্ধ অবস্থায় শোকাতুর।
গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক অন্তরের (২৮) বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। স্থানীয়রা জানান, সে আগে ওই ভবনেই ভাড়া থাকত এবং এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিল।
আফরোজা বেগম রানী বলেন, "শাহিনুর ভালো মানুষ ছিলেন, তার ছেলে-মেয়েরাও মেধাবী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি তাদের কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না।"
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন