খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক সুকান্তর বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিয়মিত খোলা না থাকায় স্থানীয় দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিকের চারপাশ ও সামনের অংশ আগাছা ও বন-জঙ্গলে ভরে গেছে। স্থাপনাটির জরাজীর্ণ অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দেখে সহজেই অনুমেয় যে, এখানে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বিনামূল্যে যে ওষুধ পাওয়ার কথা, তা দেওয়া হয় না; বরং রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল সর্দার ও মোঃ এরশাদ সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসক ঠিকমতো অফিস করেন না এবং প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা সরকারি সেবার পরিপন্থী। অপর এক রোগী ফারুক সরদারের অভিযোগ, চিকিৎসক ক্লিনিকে রোগী রেখে বাইরে চায়ের দোকানে সময় কাটান, যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্তর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশাসনিক মিটিং ও দাপ্তরিক কাজের চাপকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিজের গাফিলতি এড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা তার এই বক্তব্যকে 'স্রেফ তালবাহানা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল মল্লিক বলেন, "অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সরকারি চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বিষয়টি জেলা পর্যায়ে পৌঁছালে খুলনা সিভিল সার্জন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ক্লিনিকে দায়িত্ববান চিকিৎসক পদায়ন এবং দ্রুত পরিবেশ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক সুকান্তর বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিয়মিত খোলা না থাকায় স্থানীয় দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিকের চারপাশ ও সামনের অংশ আগাছা ও বন-জঙ্গলে ভরে গেছে। স্থাপনাটির জরাজীর্ণ অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দেখে সহজেই অনুমেয় যে, এখানে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বিনামূল্যে যে ওষুধ পাওয়ার কথা, তা দেওয়া হয় না; বরং রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল সর্দার ও মোঃ এরশাদ সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসক ঠিকমতো অফিস করেন না এবং প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা সরকারি সেবার পরিপন্থী। অপর এক রোগী ফারুক সরদারের অভিযোগ, চিকিৎসক ক্লিনিকে রোগী রেখে বাইরে চায়ের দোকানে সময় কাটান, যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্তর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশাসনিক মিটিং ও দাপ্তরিক কাজের চাপকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিজের গাফিলতি এড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা তার এই বক্তব্যকে 'স্রেফ তালবাহানা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল মল্লিক বলেন, "অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সরকারি চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বিষয়টি জেলা পর্যায়ে পৌঁছালে খুলনা সিভিল সার্জন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ক্লিনিকে দায়িত্ববান চিকিৎসক পদায়ন এবং দ্রুত পরিবেশ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন