নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

পলিথিন মাথায় রাত কাটে বৃদ্ধ দুর্গাচরণের

পলিথিন মাথায় রাত কাটে বৃদ্ধ দুর্গাচরণের

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ দুর্গাচরণ রায়। বয়সের ভারে নুব্জ, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একমুঠো অন্নের নিশ্চয়তাটুকুও তার নেই। গত ১২ বছর ধরে সেচ ক্যানেলের ধারে এক জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। বৃষ্টি হলে পলিথিন মাথায় দিয়ে কোণঠাসা হয়ে রাত কাটাতে হয় তাকে।

দুর্গাচরণ রায় জানান, ১০ বছর আগে স্ত্রী মারা গেছেন। এক ছেলে রয়েছে, কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সে আলাদা থাকে এবং বৃদ্ধ বাবার কোনো খোঁজখবর নেয় না। শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যানেলের ধারে টিন, সুপারির পাতা, পলিথিন, বস্তা ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে তৈরি একটি ঘর। মরিচা ধরা টিনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির সময় পানি ঘরে ঢুকে হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। সাপ, ব্যাঙ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় তাকে।

দুর্গাচরণ বলেন, "আমি খুব নিঃস্ব মানুষ। পেটে ভাত যায় না। প্রতিবেশী যা দেয়, তাই খাই। না দিলে অনাহারে থাকি। ঝড়-বৃষ্টি এলে কাপড়-চোপড় ও পলিথিন মাথায় দিয়ে ঘরের এক কোণে বসে থাকি।"

ক্লান্ত কণ্ঠে এই বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, "চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে অনেক ঘুরেছি, সরকারি বয়স্ক ভাতার আবেদন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। বয়স্কভাতা তো দূরের কথা, কোনো সরকারি অনুদানও আমার কপালে জোটেনি।"

প্রতিবেশী হরিকৃষ্ণ রায় ও মলি রাণি জানান, বৃদ্ধের বর্তমান জীবনযাপন অত্যন্ত অমানবিক। অন্যের দয়ায় কোনোমতে বেঁচে আছেন তিনি। সরকার বা বিত্তবান কেউ যদি তার পাশে দাঁড়াত, তবে শেষ বয়সে কিছুটা শান্তি পেতেন তিনি।

স্থানীয়দের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, "আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত তাকে সরকারি সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃদ্ধকে সমাজসেবা অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার জন্য যা যা সরকারি সহায়তা প্রদান সম্ভব, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নীলফামারী, কিশোরগঞ্জ, দুর্গাচরণ রায়, মানবিক সংকট, দারিদ্র্য, বয়স্কভাতা, সরকারি সহায়তা, Nilphamari, Kishoreganj, Poverty, Humanitarian Crisis, Government Aid

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পলিথিন মাথায় রাত কাটে বৃদ্ধ দুর্গাচরণের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ দুর্গাচরণ রায়। বয়সের ভারে নুব্জ, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একমুঠো অন্নের নিশ্চয়তাটুকুও তার নেই। গত ১২ বছর ধরে সেচ ক্যানেলের ধারে এক জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। বৃষ্টি হলে পলিথিন মাথায় দিয়ে কোণঠাসা হয়ে রাত কাটাতে হয় তাকে।

দুর্গাচরণ রায় জানান, ১০ বছর আগে স্ত্রী মারা গেছেন। এক ছেলে রয়েছে, কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সে আলাদা থাকে এবং বৃদ্ধ বাবার কোনো খোঁজখবর নেয় না। শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যানেলের ধারে টিন, সুপারির পাতা, পলিথিন, বস্তা ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে তৈরি একটি ঘর। মরিচা ধরা টিনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির সময় পানি ঘরে ঢুকে হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। সাপ, ব্যাঙ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় তাকে।

দুর্গাচরণ বলেন, "আমি খুব নিঃস্ব মানুষ। পেটে ভাত যায় না। প্রতিবেশী যা দেয়, তাই খাই। না দিলে অনাহারে থাকি। ঝড়-বৃষ্টি এলে কাপড়-চোপড় ও পলিথিন মাথায় দিয়ে ঘরের এক কোণে বসে থাকি।"

ক্লান্ত কণ্ঠে এই বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, "চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে অনেক ঘুরেছি, সরকারি বয়স্ক ভাতার আবেদন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। বয়স্কভাতা তো দূরের কথা, কোনো সরকারি অনুদানও আমার কপালে জোটেনি।"

প্রতিবেশী হরিকৃষ্ণ রায় ও মলি রাণি জানান, বৃদ্ধের বর্তমান জীবনযাপন অত্যন্ত অমানবিক। অন্যের দয়ায় কোনোমতে বেঁচে আছেন তিনি। সরকার বা বিত্তবান কেউ যদি তার পাশে দাঁড়াত, তবে শেষ বয়সে কিছুটা শান্তি পেতেন তিনি।

স্থানীয়দের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, "আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত তাকে সরকারি সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃদ্ধকে সমাজসেবা অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার জন্য যা যা সরকারি সহায়তা প্রদান সম্ভব, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত