ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় আব্দুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনার জেরে রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী এলাকার লোকজন পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে হামলা চালায়।
সকাল ৯টার দিকে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। উভয় পক্ষের হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় পাশের রেললাইন থেকে পাথর সংগ্রহ করে একে অপরের ওপর নিক্ষেপ করা হয় এবং বাসস্ট্যান্ডের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ওসি মিজানুর রহমান, তিন এসআই ও চার কনস্টেবল। ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল ও যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় আব্দুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনার জেরে রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী এলাকার লোকজন পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে হামলা চালায়।
সকাল ৯টার দিকে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। উভয় পক্ষের হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় পাশের রেললাইন থেকে পাথর সংগ্রহ করে একে অপরের ওপর নিক্ষেপ করা হয় এবং বাসস্ট্যান্ডের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ওসি মিজানুর রহমান, তিন এসআই ও চার কনস্টেবল। ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল ও যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন