পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন বরগুনার হাসানুল হক উজ্জ্বল। ড্রাগন ফল চাষ করে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং এলাকার অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাকে বরগুনার কৃষিতে একজন ‘আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় নিমতলী আজিজাবাদ চরমাইঠা বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হাসানুল হক উজ্জ্বল। ২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় মাত্র দুই একর জমিতে ১,১০০টি খুঁটি দিয়ে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। বর্তমানে তার তিনটি বাগানে মোট তিন একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।
শিক্ষক উজ্জ্বল জানান, ২০২১ সালে শুরুর পর থেকেই তিনি নিয়মিত ভালো আয় করছেন। তার বাগানের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে তিনি ড্রাগন ফল বিক্রির উপার্জিত টাকায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে তার বাগান থেকে প্রতি বছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়। এছাড়া, বাগানের কাজে নিয়মিত ৮ থেকে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দার কর্মসংস্থান হয়েছে, যারা মাস শেষে ভালো বেতন পাচ্ছেন।
উজ্জ্বলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার চাচাতো ভাই মো. কামাল তার দেখাদেখি বাগান করে বছরে খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা মুনাফা করছেন। উজ্জ্বল নতুন চাষিদের চারা সংগ্রহ ও বাগান পরিচর্যায় নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া তিনি আগামীতে আরও দুই একর জমিতে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “বরগুনায় ড্রাগন চাষে উজ্জ্বল একজন আইকন। তার কারিগরি দক্ষতা ও উদ্যম দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন। ড্রাগন চাষে অধিক মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শিক্ষক উজ্জ্বলকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে এবং তার যেকোনো প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ সব সময় পাশে থাকবে।”
বর্তমানে বরগুনার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উজ্জ্বলের বাগানের উৎপাদিত ফল বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন বরগুনার হাসানুল হক উজ্জ্বল। ড্রাগন ফল চাষ করে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং এলাকার অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাকে বরগুনার কৃষিতে একজন ‘আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় নিমতলী আজিজাবাদ চরমাইঠা বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হাসানুল হক উজ্জ্বল। ২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় মাত্র দুই একর জমিতে ১,১০০টি খুঁটি দিয়ে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। বর্তমানে তার তিনটি বাগানে মোট তিন একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।
শিক্ষক উজ্জ্বল জানান, ২০২১ সালে শুরুর পর থেকেই তিনি নিয়মিত ভালো আয় করছেন। তার বাগানের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে তিনি ড্রাগন ফল বিক্রির উপার্জিত টাকায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে তার বাগান থেকে প্রতি বছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়। এছাড়া, বাগানের কাজে নিয়মিত ৮ থেকে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দার কর্মসংস্থান হয়েছে, যারা মাস শেষে ভালো বেতন পাচ্ছেন।
উজ্জ্বলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার চাচাতো ভাই মো. কামাল তার দেখাদেখি বাগান করে বছরে খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা মুনাফা করছেন। উজ্জ্বল নতুন চাষিদের চারা সংগ্রহ ও বাগান পরিচর্যায় নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া তিনি আগামীতে আরও দুই একর জমিতে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “বরগুনায় ড্রাগন চাষে উজ্জ্বল একজন আইকন। তার কারিগরি দক্ষতা ও উদ্যম দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন। ড্রাগন চাষে অধিক মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শিক্ষক উজ্জ্বলকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে এবং তার যেকোনো প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ সব সময় পাশে থাকবে।”
বর্তমানে বরগুনার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উজ্জ্বলের বাগানের উৎপাদিত ফল বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন