নরসিংদীর দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি এবং দুজনকে পরীক্ষা কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় মনোহরদী উপজেলার একটি কেন্দ্রে এমসিকিউ এবং সদর উপজেলার আরেকটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষায় এই ভুলের ঘটনা ঘটে।
মনোহরদী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা শেষে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের পরিবর্তে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের ‘খ’ সেট (কোড-১২১) প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, হলের ভেতর তারা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে উত্তর মেলানোর সময় ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এতে ভালো ফলাফল নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের চার শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন, আরেফা সুলতানা (সহকারী অধ্যাপক ও হল সুপার) সামছুল আলম (প্রভাষক), মাহমুদুর রহমান (প্রভাষক), মো. আকরাম হোসেন (প্রভাষক)।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান জানান, শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমনটি ঘটেছে। চার শিক্ষককে অব্যাহতির পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের (গত বছরের) লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ মিনিট পর পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি ধরতে পেরে শিক্ষকদের জানালে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্র বদলে নতুন প্রশ্ন দেওয়া হয়।
কেন্দ্র সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুল প্রশ্ন বিতরণের কারণে নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে পরীক্ষা কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে শোকজ করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় তারা ভালোভাবে পরীক্ষা শেষ করতে পেরেছে।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি এবং দুজনকে পরীক্ষা কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় মনোহরদী উপজেলার একটি কেন্দ্রে এমসিকিউ এবং সদর উপজেলার আরেকটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষায় এই ভুলের ঘটনা ঘটে।
মনোহরদী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা শেষে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের পরিবর্তে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের ‘খ’ সেট (কোড-১২১) প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, হলের ভেতর তারা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে উত্তর মেলানোর সময় ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এতে ভালো ফলাফল নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের চার শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন, আরেফা সুলতানা (সহকারী অধ্যাপক ও হল সুপার) সামছুল আলম (প্রভাষক), মাহমুদুর রহমান (প্রভাষক), মো. আকরাম হোসেন (প্রভাষক)।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান জানান, শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমনটি ঘটেছে। চার শিক্ষককে অব্যাহতির পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের (গত বছরের) লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ মিনিট পর পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি ধরতে পেরে শিক্ষকদের জানালে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্র বদলে নতুন প্রশ্ন দেওয়া হয়।
কেন্দ্র সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুল প্রশ্ন বিতরণের কারণে নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে পরীক্ষা কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে শোকজ করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় তারা ভালোভাবে পরীক্ষা শেষ করতে পেরেছে।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন