শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা চরম দারিদ্র্য—কোনো কিছুই থামাতে পারেনি কুড়িগ্রামের অদম্য শিক্ষার্থী অনামিকা রায়কে। প্রতিকূলতাকে জয় করে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করা অনামিকা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বোয়াইলভীর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষায় বসেছে অনামিকা। খাতার ওপর কলম চালানোর সময় তার শরীর বারবার কেঁপে উঠছে, পুরো শরীর ঝুঁকিয়ে প্রচণ্ড কষ্টে লিখছে সে। তবুও তার চোখেমুখে দেখা গেছে দৃঢ় সংকল্প।
নাগেশ্বরী উপজেলার গাগলা ইউনিয়নের ব্যাঙের দোলা গ্রামের অনিল চন্দ্র ও কাঞ্চনমালা রানী দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট অনামিকা। পাঁচ বছর বয়সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার দুই পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত বেঁকে যায়। কথা বলার সময়ও তার ঠোঁট ও তালুতে জড়তা চলে আসে। অভাবের সংসারে কৃষক বাবার সর্বস্ব দিয়ে তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তবুও মেয়ের লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছাকে মাটি হতে দেননি বাবা। অনামিকা ২০২৪ সালে গাগলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। বর্তমানে সে কাশীপুর কলেজের ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস শাখার ছাত্রী।
অনামিকার বাবা শ্রী অনিল চন্দ্র জানান, “দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালাই। মেয়ের পড়াশোনার খুব আগ্রহ, কিন্তু টাকা-পয়সার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ি। কেউ যদি আমার মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিত, তবে সে হয়তো তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারত।”
কাশীপুর কলেজের প্রভাষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অনামিকা অত্যন্ত মেধাবী। সুষ্ঠু পরিবেশ ও সহায়তা পেলে সে অবশ্যই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।” কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তার এই পরীক্ষা দেওয়া অন্যদের জন্য প্রেরণার উৎস।
অনামিকা জানায়, “আমি পড়ালেখা করে শিক্ষক হতে চাই। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।”
এবারে ফুলবাড়ী উপজেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় মোট ১,১০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১,০৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অনামিকার মতো এমন অদম্য শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প সমাজের প্রতিকূলতা জয় করার সাহস যোগায়।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা চরম দারিদ্র্য—কোনো কিছুই থামাতে পারেনি কুড়িগ্রামের অদম্য শিক্ষার্থী অনামিকা রায়কে। প্রতিকূলতাকে জয় করে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করা অনামিকা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বোয়াইলভীর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষায় বসেছে অনামিকা। খাতার ওপর কলম চালানোর সময় তার শরীর বারবার কেঁপে উঠছে, পুরো শরীর ঝুঁকিয়ে প্রচণ্ড কষ্টে লিখছে সে। তবুও তার চোখেমুখে দেখা গেছে দৃঢ় সংকল্প।
নাগেশ্বরী উপজেলার গাগলা ইউনিয়নের ব্যাঙের দোলা গ্রামের অনিল চন্দ্র ও কাঞ্চনমালা রানী দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট অনামিকা। পাঁচ বছর বয়সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার দুই পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত বেঁকে যায়। কথা বলার সময়ও তার ঠোঁট ও তালুতে জড়তা চলে আসে। অভাবের সংসারে কৃষক বাবার সর্বস্ব দিয়ে তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তবুও মেয়ের লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছাকে মাটি হতে দেননি বাবা। অনামিকা ২০২৪ সালে গাগলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। বর্তমানে সে কাশীপুর কলেজের ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস শাখার ছাত্রী।
অনামিকার বাবা শ্রী অনিল চন্দ্র জানান, “দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালাই। মেয়ের পড়াশোনার খুব আগ্রহ, কিন্তু টাকা-পয়সার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ি। কেউ যদি আমার মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিত, তবে সে হয়তো তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারত।”
কাশীপুর কলেজের প্রভাষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অনামিকা অত্যন্ত মেধাবী। সুষ্ঠু পরিবেশ ও সহায়তা পেলে সে অবশ্যই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।” কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তার এই পরীক্ষা দেওয়া অন্যদের জন্য প্রেরণার উৎস।
অনামিকা জানায়, “আমি পড়ালেখা করে শিক্ষক হতে চাই। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।”
এবারে ফুলবাড়ী উপজেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় মোট ১,১০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১,০৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অনামিকার মতো এমন অদম্য শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প সমাজের প্রতিকূলতা জয় করার সাহস যোগায়।

আপনার মতামত লিখুন