পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়ে দালালের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার যুবক শান্ত মণ্ডল (১৮)। মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে ইরান যাওয়ার পথে সেনাবাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে শান্ত ঋণের বোঝা ও চিকিৎসার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কুমড়িরানী গ্রামের বাসিন্দা শান্ত মণ্ডল গত ২০ এপ্রিল সাড়ে সাত লাখ টাকার চুক্তিতে দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। পরিবারের অভিযোগ, দুবাই পৌঁছানোর পর তাকে পাকিস্তানের করাচিতে জিম্মি করে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সাত দিন ধরে অমানবিক অবস্থায় সমুদ্র, পাহাড় ও সড়কপথ পাড়ি দিয়ে তাকে ইরানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ইরানের স্পান শহর পেরিয়ে তেহরানের পথে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেয়। চালক গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর গুলিতে শান্তর বাম বুকের পাঁজর ও বাম হাতে গুলি লাগে। দীর্ঘ যন্ত্রণা শেষে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় গত ৩০ জুন তিনি দেশে ফেরেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলির আঘাতে তার প্লীহা (স্প্লিন) অপসারণ করতে হয়েছে এবং পূর্ণ সুস্থতার জন্য আরও ৩-৪ লাখ টাকার চিকিৎসা প্রয়োজন।
শান্তর বাবা মো. শিরু মণ্ডল জানান, ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলের চিকিৎসা করার সামর্থ্যও তাদের নেই। তারা দালালদের বিচার ও তাদের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত দালালদের মধ্যে রবিউল ইসলামের পরিবারের দাবি, তারা নিজেরাও প্রতারণার শিকার। টাকা গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে তারা তুফান নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তবে স্থানীয় কালুখালী থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন দেখা শান্ত এখন নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সরকারি সহায়তা ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়ে দালালের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার যুবক শান্ত মণ্ডল (১৮)। মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে ইরান যাওয়ার পথে সেনাবাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে শান্ত ঋণের বোঝা ও চিকিৎসার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কুমড়িরানী গ্রামের বাসিন্দা শান্ত মণ্ডল গত ২০ এপ্রিল সাড়ে সাত লাখ টাকার চুক্তিতে দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। পরিবারের অভিযোগ, দুবাই পৌঁছানোর পর তাকে পাকিস্তানের করাচিতে জিম্মি করে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সাত দিন ধরে অমানবিক অবস্থায় সমুদ্র, পাহাড় ও সড়কপথ পাড়ি দিয়ে তাকে ইরানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ইরানের স্পান শহর পেরিয়ে তেহরানের পথে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেয়। চালক গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর গুলিতে শান্তর বাম বুকের পাঁজর ও বাম হাতে গুলি লাগে। দীর্ঘ যন্ত্রণা শেষে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় গত ৩০ জুন তিনি দেশে ফেরেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলির আঘাতে তার প্লীহা (স্প্লিন) অপসারণ করতে হয়েছে এবং পূর্ণ সুস্থতার জন্য আরও ৩-৪ লাখ টাকার চিকিৎসা প্রয়োজন।
শান্তর বাবা মো. শিরু মণ্ডল জানান, ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলের চিকিৎসা করার সামর্থ্যও তাদের নেই। তারা দালালদের বিচার ও তাদের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত দালালদের মধ্যে রবিউল ইসলামের পরিবারের দাবি, তারা নিজেরাও প্রতারণার শিকার। টাকা গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে তারা তুফান নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তবে স্থানীয় কালুখালী থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন দেখা শান্ত এখন নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সরকারি সহায়তা ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

আপনার মতামত লিখুন