অদম্য ইচ্ছা আর নিরলস সংগ্রামের গল্প লিখে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে (ইতিহাস বিভাগ) জাতীয় মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুরের হাসান আল মামুন। তার এই সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার বইছে হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ পুরো জেলায়।
হাসান আল মামুন চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মরহুম বাবুল মিয়া ও মমতাজ বেগমের সন্তান। বাবা ছিলেন একজন মুদি দোকানদার, যিনি ২০২২ সালে মারা গেছেন। অভাবের তাড়নায় কখনো দমে যাননি মামুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন বিসিএসের জন্য। বর্তমানে তিনি পশ্চিম দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এর আগে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। ৪৩তম বিসিএসে ভাইভা দিলেও সফল হতে পারেননি, তবে ৪৭তম বিসিএসে এসে বাজিমাত করলেন মেধার জোরে।
হাসান আল মামুনের এই অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার পরিবার। তার মা মমতাজ বেগম বলেন, "আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে শিক্ষা ক্যাডারে চান্স পাক। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।" মামুনের বড় ভাই সুজন আরিফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। পরিবারের অন্যদেরও শিক্ষাঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ততা থাকায় মামুনের মাঝেও ছিল শিক্ষা ক্যাডারের প্রতি বিশেষ ঝোঁক।
প্রথম হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মামুন বলেন, "আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা। বাবা বেঁচে নেই, তিনি থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার এ লড়াইয়ে পরিবারের সহযোগিতা ছিল অসামান্য।" নতুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "বিসিএস স্বপ্নের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে ছোটখাটো চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।"
গত ২৮ জুন ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডারে ২০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করে পিএসসি যে রেকর্ড গড়েছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফলেও হাসান আল মামুনের সাফল্য চাঁদপুরের জন্য এক গৌরবময় মাইলফলক হয়ে রইল।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
অদম্য ইচ্ছা আর নিরলস সংগ্রামের গল্প লিখে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে (ইতিহাস বিভাগ) জাতীয় মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুরের হাসান আল মামুন। তার এই সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার বইছে হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ পুরো জেলায়।
হাসান আল মামুন চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মরহুম বাবুল মিয়া ও মমতাজ বেগমের সন্তান। বাবা ছিলেন একজন মুদি দোকানদার, যিনি ২০২২ সালে মারা গেছেন। অভাবের তাড়নায় কখনো দমে যাননি মামুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন বিসিএসের জন্য। বর্তমানে তিনি পশ্চিম দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এর আগে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। ৪৩তম বিসিএসে ভাইভা দিলেও সফল হতে পারেননি, তবে ৪৭তম বিসিএসে এসে বাজিমাত করলেন মেধার জোরে।
হাসান আল মামুনের এই অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার পরিবার। তার মা মমতাজ বেগম বলেন, "আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে শিক্ষা ক্যাডারে চান্স পাক। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।" মামুনের বড় ভাই সুজন আরিফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। পরিবারের অন্যদেরও শিক্ষাঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ততা থাকায় মামুনের মাঝেও ছিল শিক্ষা ক্যাডারের প্রতি বিশেষ ঝোঁক।
প্রথম হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মামুন বলেন, "আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা। বাবা বেঁচে নেই, তিনি থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার এ লড়াইয়ে পরিবারের সহযোগিতা ছিল অসামান্য।" নতুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "বিসিএস স্বপ্নের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে ছোটখাটো চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।"
গত ২৮ জুন ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডারে ২০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করে পিএসসি যে রেকর্ড গড়েছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফলেও হাসান আল মামুনের সাফল্য চাঁদপুরের জন্য এক গৌরবময় মাইলফলক হয়ে রইল।

আপনার মতামত লিখুন