খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১২নং রংপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বটবেড়া এলাকার মিলন মন্ডলের বাড়ি থেকে গোবিন্দ রায়ের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুনঃনির্মাণ ও প্যালাসাইডিংয়ের জন্য ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র বৈরাগী।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম ও শিডিউল উপেক্ষা করে দায়সারাভাবে কাজ চলছে। ৬ ফুট প্রস্থের রাস্তা করার নকশা থাকলেও বাস্তবে তা ৫ ফুটেরও কম। এছাড়া নতুন ইটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে পুরোনো ও ভাঙা ইট। ইটের নিচে বালুর স্তর না থাকা এবং অত্যন্ত দুর্বল পাইলিং কাঠামো ব্যবহারের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তুষার মন্ডল ও অজিত মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি বরাদ্দে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে লুটপাট। নিম্নমানের ইট ও বাঁশ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যা আমাদের করের টাকার অপচয়।”
অভিযুক্ত প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র বৈরাগী কাজের ত্রুটির কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, “কাজে সামান্য কিছু ত্রুটি হয়েছে, তবে অভিযোগের মতো ততটা খারাপ কাজ হয়নি। বাকিটুকু নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হবে।”
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সমরেশ মন্ডল বলেন, “কাজের অনিয়মের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।”
উপ-সহকারী কর্মকর্তা (ডুমুরিয়া উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়) রফিকুল ইসলাম জানান, “প্রকল্পের প্রথম কিস্তির বিল দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পুরো বিল এখনো ছাড় করা হয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। শিডিউল বহির্ভূত বা নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে প্রকল্পের অবশিষ্ট বিল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হবে।”
প্রশাসনের বিল স্থগিতের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কাজ শেষ হওয়ার পর জোড়াতালি দিয়ে মানসম্মত সড়ক পাওয়া সম্ভব নয়। তারা সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন করে সড়কটি মানসম্মতভাবে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামীণ জনপদের যাতায়াত সচল রাখতে সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়। কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এগুলো দুর্নীতির উৎসে পরিণত হচ্ছে। ডুমুরিয়ার এই ঘটনা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও কঠোর মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১২নং রংপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বটবেড়া এলাকার মিলন মন্ডলের বাড়ি থেকে গোবিন্দ রায়ের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুনঃনির্মাণ ও প্যালাসাইডিংয়ের জন্য ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র বৈরাগী।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম ও শিডিউল উপেক্ষা করে দায়সারাভাবে কাজ চলছে। ৬ ফুট প্রস্থের রাস্তা করার নকশা থাকলেও বাস্তবে তা ৫ ফুটেরও কম। এছাড়া নতুন ইটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে পুরোনো ও ভাঙা ইট। ইটের নিচে বালুর স্তর না থাকা এবং অত্যন্ত দুর্বল পাইলিং কাঠামো ব্যবহারের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তুষার মন্ডল ও অজিত মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি বরাদ্দে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে লুটপাট। নিম্নমানের ইট ও বাঁশ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যা আমাদের করের টাকার অপচয়।”
অভিযুক্ত প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র বৈরাগী কাজের ত্রুটির কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, “কাজে সামান্য কিছু ত্রুটি হয়েছে, তবে অভিযোগের মতো ততটা খারাপ কাজ হয়নি। বাকিটুকু নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হবে।”
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সমরেশ মন্ডল বলেন, “কাজের অনিয়মের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।”
উপ-সহকারী কর্মকর্তা (ডুমুরিয়া উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়) রফিকুল ইসলাম জানান, “প্রকল্পের প্রথম কিস্তির বিল দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পুরো বিল এখনো ছাড় করা হয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। শিডিউল বহির্ভূত বা নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে প্রকল্পের অবশিষ্ট বিল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হবে।”
প্রশাসনের বিল স্থগিতের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কাজ শেষ হওয়ার পর জোড়াতালি দিয়ে মানসম্মত সড়ক পাওয়া সম্ভব নয়। তারা সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন করে সড়কটি মানসম্মতভাবে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামীণ জনপদের যাতায়াত সচল রাখতে সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়। কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এগুলো দুর্নীতির উৎসে পরিণত হচ্ছে। ডুমুরিয়ার এই ঘটনা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও কঠোর মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন