টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজার জেলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলাজুড়ে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন লক্ষাধিক মানুষ।
সর্বশেষ শুক্রবার (১০ জুলাই) চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে নৌকাডুবিতে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে শিশুসহ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন দুর্গত মানুষ সরকারি হিসেবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজার জেলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলাজুড়ে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন লক্ষাধিক মানুষ।
সর্বশেষ শুক্রবার (১০ জুলাই) চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে নৌকাডুবিতে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে শিশুসহ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন দুর্গত মানুষ সরকারি হিসেবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন