খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিখালী ও বিলডাকাতিয়ার নিমতলা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খালের পানি অপসারণ না করেই ভাসমান এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে নামমাত্র কাদা উত্তোলন করে বরাদ্দের টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অনিয়ম ও লুটেরা সিন্ডিকেটের নেপথ্যে খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবিতা সরকার জড়িত রয়েছেন।
উপজেলার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনের লক্ষ্যে তেলিখালী ও নিমতলা খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (শ্রমিক দিয়ে) এবং পানি অপসারণ করে খননকাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনোটিই মানা হচ্ছে না।
প্রকল্প এলাকায় খালের বিভিন্ন অংশে ৫ থেকে ১০ ফুট পানি জমে থাকলেও তা অপসারণ করা হয়নি। ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে শুধু পানির নিচ থেকে কাদা তুলে পাড়ে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে, যা বৃষ্টি হলেই আবার খালে ফিরে যাচ্ছে। এতে খালের গভীরতা বাড়ছে না, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের জন্য দরিদ্র মানুষের এনআইডি সংগ্রহ করা হলেও কাউকে কাজে নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এই আইডিগুলো ব্যবহার করে মাস্টাররোলে ভুয়া শ্রমিক সাজিয়ে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে।
জেলা প্রশাসনের দপ্তরে ৭১ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও, এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশের নিচে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও কাজী মাওলানা মো. আব্দুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ছিল দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের, অথচ মানুষের আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে ভুয়া নাম দিয়ে টাকা লুট করা হচ্ছে—এটা চরম অন্যায়। এই হরিলুটের কারণে ডুমুরিয়ার লাখ লাখ মানুষ আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার মুখে পড়বে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ রফিকুল ইসলাম যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করার কথা স্বীকার করে জানান, কাজের আংশিক বিল হিসেবে ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউএনও সবিতা সরকার তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বরাদ্দ সঠিক নিয়মে এবং স্বচ্ছতার সাথেই ব্যয় করা হচ্ছে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিষয়টি নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “ডুমুরিয়ার প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ইউএনও, পিআইও বা সংশ্লিষ্ট যে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত যেন কেবল কাগুজে প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হয়—এটাই এখন ডুমুরিয়াবাসীর একমাত্র দাবি।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিখালী ও বিলডাকাতিয়ার নিমতলা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খালের পানি অপসারণ না করেই ভাসমান এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে নামমাত্র কাদা উত্তোলন করে বরাদ্দের টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অনিয়ম ও লুটেরা সিন্ডিকেটের নেপথ্যে খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবিতা সরকার জড়িত রয়েছেন।
উপজেলার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনের লক্ষ্যে তেলিখালী ও নিমতলা খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (শ্রমিক দিয়ে) এবং পানি অপসারণ করে খননকাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনোটিই মানা হচ্ছে না।
প্রকল্প এলাকায় খালের বিভিন্ন অংশে ৫ থেকে ১০ ফুট পানি জমে থাকলেও তা অপসারণ করা হয়নি। ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে শুধু পানির নিচ থেকে কাদা তুলে পাড়ে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে, যা বৃষ্টি হলেই আবার খালে ফিরে যাচ্ছে। এতে খালের গভীরতা বাড়ছে না, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের জন্য দরিদ্র মানুষের এনআইডি সংগ্রহ করা হলেও কাউকে কাজে নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এই আইডিগুলো ব্যবহার করে মাস্টাররোলে ভুয়া শ্রমিক সাজিয়ে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে।
জেলা প্রশাসনের দপ্তরে ৭১ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও, এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশের নিচে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও কাজী মাওলানা মো. আব্দুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ছিল দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের, অথচ মানুষের আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে ভুয়া নাম দিয়ে টাকা লুট করা হচ্ছে—এটা চরম অন্যায়। এই হরিলুটের কারণে ডুমুরিয়ার লাখ লাখ মানুষ আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার মুখে পড়বে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ রফিকুল ইসলাম যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করার কথা স্বীকার করে জানান, কাজের আংশিক বিল হিসেবে ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউএনও সবিতা সরকার তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বরাদ্দ সঠিক নিয়মে এবং স্বচ্ছতার সাথেই ব্যয় করা হচ্ছে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিষয়টি নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “ডুমুরিয়ার প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ইউএনও, পিআইও বা সংশ্লিষ্ট যে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত যেন কেবল কাগুজে প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হয়—এটাই এখন ডুমুরিয়াবাসীর একমাত্র দাবি।

আপনার মতামত লিখুন