নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই বছর ধরে অপহৃত, নিহত ও গুম হয়ে থাকা এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিজের অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ওই যুবক নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার মাকে দিয়ে মামলা করিয়েছিলেন। এই মিথ্যা মামলায় এক ঠিকাদারকে ৪ মাস কারাভোগও করতে হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া যুবক মো. মোস্তফা কামাল (২৮) ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা, যিনি বর্তমানে কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করেন। মোস্তফা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকার ঠিকাদার জামান মিয়ার সাথে তার কয়েক লাখ টাকার লেনদেন ছিল। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে মোস্তফা কামাল নিরুদ্দেশ হন। 

এরপর তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি রেকর্ড হলে ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামান মিয়া এ মামলায় চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল হক জানান, তদন্তে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ জুলাই রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করা হয়। 

জানা যায়, সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মোস্তফার আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবার জানলেও তারা জেনেশুনে পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল।

ঠিকাদার জামান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোস্তফার সঙ্গে আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার লেনদেন ছিল। টাকা চাইতে গেলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তার মা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। আমি বিনা দোষে জেল খেটেছি। আমি এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গুমের অভিযোগে নিখোঁজ দেখানো যুবকটি সজ্ঞানে আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।”

উদ্ধারের পর মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কিশোরগঞ্জ, কুলিয়ারচর, গুম নাটক, মিথ্যা মামলা, ঠিকাদার জামান মিয়া, মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ পুলিশ, Kishoreganj, Kuliarchar, Disappearance Drama, False Case, Contractor Zaman Mia, Mostafa Kamal, Police Investigation

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই বছর ধরে অপহৃত, নিহত ও গুম হয়ে থাকা এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিজের অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ওই যুবক নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার মাকে দিয়ে মামলা করিয়েছিলেন। এই মিথ্যা মামলায় এক ঠিকাদারকে ৪ মাস কারাভোগও করতে হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া যুবক মো. মোস্তফা কামাল (২৮) ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা, যিনি বর্তমানে কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করেন। মোস্তফা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকার ঠিকাদার জামান মিয়ার সাথে তার কয়েক লাখ টাকার লেনদেন ছিল। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে মোস্তফা কামাল নিরুদ্দেশ হন। 

এরপর তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি রেকর্ড হলে ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামান মিয়া এ মামলায় চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল হক জানান, তদন্তে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ জুলাই রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করা হয়। 

জানা যায়, সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মোস্তফার আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবার জানলেও তারা জেনেশুনে পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল।

ঠিকাদার জামান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোস্তফার সঙ্গে আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার লেনদেন ছিল। টাকা চাইতে গেলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তার মা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। আমি বিনা দোষে জেল খেটেছি। আমি এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গুমের অভিযোগে নিখোঁজ দেখানো যুবকটি সজ্ঞানে আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।”

উদ্ধারের পর মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত