রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর নির্মিত অধিকাংশ সেতু ও কালভার্ট এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব সেতুর ঢালাই খসে ভেতরের লোহার রড বের হয়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দু'পাশের রেলিং। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীপাড়া ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকার সংযোগ সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেতুর মূল পিলারগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রিকশা বা অটোরিকশা উঠলেই পুরো সেতু কাঁপতে থাকে। বৈরাগীপাড়ার বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের কথা কেউ শোনে না। এলাকার মানুষ বহুবার সিটি করপোরেশনে গিয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছে, সবাই শুধু আশ্বাস দেয়। দিন যত যাচ্ছে ঝুঁকি ততই বাড়ছে।"
একই চিত্র দেখা গেছে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া-মুলাটোল এলাকার সেতুটিতেও। স্থানীয় বাসিন্দা মেজবাহুল হিমেল জানান, "ভারি কোনো যানবাহন গেলে মনে হয় জরাজীর্ণ সেতুটি এই বুঝি ভেঙে পড়ল। এভাবে চললে কয়েক বছর পর সেতুটি আপনাআপনি ধসে পড়বে।" অন্যদিকে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়া এলাকার একটি সেতুর নির্মাণকাজ দুই বছর ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। গণঅভ্যুত্থানের পর ঠিকাদার নিখোঁজ থাকায় এবং রেলিং না থাকায় রাতের আঁধারে প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।
রসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০৫ দশমিক ৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮২টি সেতু এবং ১ হাজার ১৮৪টি কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যে শ্যামাসুন্দরী খালের ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওপর থাকা ৩৫টি সেতুর বড় অংশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী জানান, "আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচল অনুপযোগী সেতু-কালভার্টগুলো সরেজমিনে দেখেছি। বৈরাগীপাড়া, তাঁতীপাড়া, সেনপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ২২টি সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে এখনও কোনো ফান্ড বা অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।"

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর নির্মিত অধিকাংশ সেতু ও কালভার্ট এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব সেতুর ঢালাই খসে ভেতরের লোহার রড বের হয়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দু'পাশের রেলিং। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীপাড়া ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকার সংযোগ সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেতুর মূল পিলারগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রিকশা বা অটোরিকশা উঠলেই পুরো সেতু কাঁপতে থাকে। বৈরাগীপাড়ার বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের কথা কেউ শোনে না। এলাকার মানুষ বহুবার সিটি করপোরেশনে গিয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছে, সবাই শুধু আশ্বাস দেয়। দিন যত যাচ্ছে ঝুঁকি ততই বাড়ছে।"
একই চিত্র দেখা গেছে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া-মুলাটোল এলাকার সেতুটিতেও। স্থানীয় বাসিন্দা মেজবাহুল হিমেল জানান, "ভারি কোনো যানবাহন গেলে মনে হয় জরাজীর্ণ সেতুটি এই বুঝি ভেঙে পড়ল। এভাবে চললে কয়েক বছর পর সেতুটি আপনাআপনি ধসে পড়বে।" অন্যদিকে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়া এলাকার একটি সেতুর নির্মাণকাজ দুই বছর ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। গণঅভ্যুত্থানের পর ঠিকাদার নিখোঁজ থাকায় এবং রেলিং না থাকায় রাতের আঁধারে প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।
রসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০৫ দশমিক ৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮২টি সেতু এবং ১ হাজার ১৮৪টি কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যে শ্যামাসুন্দরী খালের ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওপর থাকা ৩৫টি সেতুর বড় অংশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী জানান, "আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচল অনুপযোগী সেতু-কালভার্টগুলো সরেজমিনে দেখেছি। বৈরাগীপাড়া, তাঁতীপাড়া, সেনপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ২২টি সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে এখনও কোনো ফান্ড বা অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন