পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির আকর্ষণীয় সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে। পরে রোববার (১২ ১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হলে তা দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় জমান।
ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ না দেখায় সুন্দর মাছটি যত্ন করে তীরে নিয়ে আসেন তিনি। মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় এমন মাছ পাওয়া যায় না। বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদা না থাকলেও অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম Acanthurus lineatus। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সামুদ্রিক এলাকার প্রবাল প্রাচীর (কোরাল রিফ) ও পাথুরে এলাকায় বাস করে। এরা লেজের গোড়ায় থাকা অত্যন্ত ধারালো কাঁটা দিয়ে শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে।
'সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান ও কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পরিবেশে মাঝেমধ্যে এদের বিচরণ দেখা যায়। তবে এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক; যা দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। তাই জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির আকর্ষণীয় সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে। পরে রোববার (১২ ১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হলে তা দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় জমান।
ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ না দেখায় সুন্দর মাছটি যত্ন করে তীরে নিয়ে আসেন তিনি। মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় এমন মাছ পাওয়া যায় না। বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদা না থাকলেও অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম Acanthurus lineatus। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সামুদ্রিক এলাকার প্রবাল প্রাচীর (কোরাল রিফ) ও পাথুরে এলাকায় বাস করে। এরা লেজের গোড়ায় থাকা অত্যন্ত ধারালো কাঁটা দিয়ে শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে।
'সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান ও কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পরিবেশে মাঝেমধ্যে এদের বিচরণ দেখা যায়। তবে এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক; যা দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। তাই জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন