নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলবাসী

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলবাসী

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভাঙন বেশি দেখা দিয়েছে। 

প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও বিদ্যালয়। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, ফলে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি মৌজার তিস্তা নদী পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল জলিল (৬৫) ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগম (৪৫) জানান, ২১ বছর আগে নদী ভাঙনে সব জমি হারানোর পর এই পাড়ে এসে সামান্য ভিটায় বাড়ি করেছেন তারা। আব্দুল জলিল বলেন, ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করে যা পাঠায় তা দিয়ে সংসার চলে। রাতে বাড়ি ভাঙনের আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমও হয় না। সব জায়গায় বাঁধ দেওয়া হলেও তাদের বাড়ির সামনে বাঁধ দেওয়া হয়নি। সরকারি লোকজন এসে শুধু বাঁধ দেওয়ার আশ্বাস দেয় কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বাড়া-কমার ফলে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে অনেকে ঘরবাড়ি সরানোর সময় পাচ্ছেন না। চর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানুষ মেইনল্যান্ডের দিকে গেলেও সেখানে তাদের থাকার জায়গা মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ভাঙন রোধে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ দেওয়া হলেও তা নদীতে ভেসে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় স্কুল ও মসজিদ এখন ভাঙনের মুখে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দপ্তর থেকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়া ভাঙনে যারা বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং যাদের কোনো জায়গা নেই, তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্ত করা যায় কিনা, সে বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভাঙন বেশি দেখা দিয়েছে। 

প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও বিদ্যালয়। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, ফলে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি মৌজার তিস্তা নদী পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল জলিল (৬৫) ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগম (৪৫) জানান, ২১ বছর আগে নদী ভাঙনে সব জমি হারানোর পর এই পাড়ে এসে সামান্য ভিটায় বাড়ি করেছেন তারা। আব্দুল জলিল বলেন, ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করে যা পাঠায় তা দিয়ে সংসার চলে। রাতে বাড়ি ভাঙনের আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমও হয় না। সব জায়গায় বাঁধ দেওয়া হলেও তাদের বাড়ির সামনে বাঁধ দেওয়া হয়নি। সরকারি লোকজন এসে শুধু বাঁধ দেওয়ার আশ্বাস দেয় কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বাড়া-কমার ফলে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে অনেকে ঘরবাড়ি সরানোর সময় পাচ্ছেন না। চর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানুষ মেইনল্যান্ডের দিকে গেলেও সেখানে তাদের থাকার জায়গা মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ভাঙন রোধে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ দেওয়া হলেও তা নদীতে ভেসে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় স্কুল ও মসজিদ এখন ভাঙনের মুখে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দপ্তর থেকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়া ভাঙনে যারা বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং যাদের কোনো জায়গা নেই, তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্ত করা যায় কিনা, সে বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত