সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৪৫ জন মাছচাষির ৪০৫টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অবকাঠামো ও মাছ ভেসে যাওয়াসহ মোট প্রায় ২ কোটি ৫১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দীঘিনালা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। দীঘিনালায় ৫৭টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯৪ লাখ টাকা এবং মাটিরাঙ্গায় ৯৫টি পুকুরে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এছাড়া সদর, গুইমারা, মহালছড়ি, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলাতেও মৎস্যখাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘেরগুলোর মোট আয়তন প্রায় ৮৬ হেক্টর। বন্যার তীব্র স্রোতে অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মাছচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বন্যা পরবর্তী সময়ে চাষিদের ফিটকিরি, চুন ও পটাশিয়াম প্রয়োগ করে পুকুর শোধনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে শুধু মৎস্যখাত নয়, জেলার সড়ক যোগাযোগ, অবকাঠামো ও কৃষিখাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি এবং গ্রামীণ সড়ক মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৩৩ হেক্টর কৃষিজমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। একই সাথে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের গুজব বা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৪৫ জন মাছচাষির ৪০৫টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অবকাঠামো ও মাছ ভেসে যাওয়াসহ মোট প্রায় ২ কোটি ৫১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দীঘিনালা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। দীঘিনালায় ৫৭টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯৪ লাখ টাকা এবং মাটিরাঙ্গায় ৯৫টি পুকুরে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এছাড়া সদর, গুইমারা, মহালছড়ি, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলাতেও মৎস্যখাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘেরগুলোর মোট আয়তন প্রায় ৮৬ হেক্টর। বন্যার তীব্র স্রোতে অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মাছচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বন্যা পরবর্তী সময়ে চাষিদের ফিটকিরি, চুন ও পটাশিয়াম প্রয়োগ করে পুকুর শোধনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে শুধু মৎস্যখাত নয়, জেলার সড়ক যোগাযোগ, অবকাঠামো ও কৃষিখাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি এবং গ্রামীণ সড়ক মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৩৩ হেক্টর কৃষিজমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। একই সাথে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের গুজব বা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন