নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আগৈলঝাড়ায় দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা

আগৈলঝাড়ায় দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক অমীয় কর ও প্রভাত করকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে লোহার রড দিয়ে চালানো এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মাঠে নেমেছেন।

নিশ্চুপ নয় সাংবাদিক সমাজ: ঘটনার পর থেকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। সাংবাদিকদের দাবি, হামলাকারীরা যেই হোক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব দিয়ে রক্ষা করা যাবে না। সাংবাদিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনা না হলে স্থানীয় প্রশাসন ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ওপর এই নৃশংস হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক অমীয় কর ও প্রভাত করের ওপর হামলার ঘটনায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। কার্তিক চন্দ্র বেপারী, মো: হামিদুল ইসলাম (মহিদুল মোল্লা) ও মো: মনির মোল্লাসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ টিম কাজ করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ: সাংবাদিকতা কোনো দয়ার দান নয় সাংবাদিকতা কোনো গোষ্ঠীর দয়ার দান নয়, এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। আগৈলঝাড়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা কতটা অসহায় ও অরক্ষিত। যখনই কোনো প্রভাবশালী মহল সত্য প্রকাশে বাধা দিতে চায়, তখনই তারা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক আক্রমণের পথ বেছে নেয়।

একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার দৃঢ় অভিমত—এটি শুধু দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাত নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মুক্তমনা মানুষের কণ্ঠনালীতে আঘাত। যদি আজকের এই হামলার সঠিক বিচার না হয়, তবে আগামীর দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সংবাদমাধ্যমকে। প্রশাসনের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা: অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে যে, এ দেশে আইনের শাসন বিদ্যমান। সাংবাদিক নির্যাতনের এই সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা চাই সাংবাদিকরা যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত না থাকেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আগৈলঝাড়ায় দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক অমীয় কর ও প্রভাত করকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে লোহার রড দিয়ে চালানো এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মাঠে নেমেছেন।

নিশ্চুপ নয় সাংবাদিক সমাজ: ঘটনার পর থেকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। সাংবাদিকদের দাবি, হামলাকারীরা যেই হোক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব দিয়ে রক্ষা করা যাবে না। সাংবাদিক নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনা না হলে স্থানীয় প্রশাসন ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ওপর এই নৃশংস হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক অমীয় কর ও প্রভাত করের ওপর হামলার ঘটনায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। কার্তিক চন্দ্র বেপারী, মো: হামিদুল ইসলাম (মহিদুল মোল্লা) ও মো: মনির মোল্লাসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ টিম কাজ করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ: সাংবাদিকতা কোনো দয়ার দান নয় সাংবাদিকতা কোনো গোষ্ঠীর দয়ার দান নয়, এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। আগৈলঝাড়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা কতটা অসহায় ও অরক্ষিত। যখনই কোনো প্রভাবশালী মহল সত্য প্রকাশে বাধা দিতে চায়, তখনই তারা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক আক্রমণের পথ বেছে নেয়।

একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার দৃঢ় অভিমত—এটি শুধু দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাত নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মুক্তমনা মানুষের কণ্ঠনালীতে আঘাত। যদি আজকের এই হামলার সঠিক বিচার না হয়, তবে আগামীর দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সংবাদমাধ্যমকে। প্রশাসনের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা: অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে যে, এ দেশে আইনের শাসন বিদ্যমান। সাংবাদিক নির্যাতনের এই সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা চাই সাংবাদিকরা যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত না থাকেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত