কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। এ সময় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি পৌরসদরের শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাকান্দি ১৪০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রোববার সকালে প্রথমে শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। বিদ্যালয়টিতে কাগজে-কলমে মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এদিন মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পান এমপি। এ সময় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই পাননি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের মধ্যে চারজনের উপস্থিতি পেয়েছেন। পরে তিনি তারাকান্দি ১৪০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম দেখতে পান এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদ্যালয়ের পাঠদান ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদ হাসান এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শারফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় ইউএনওকে এসব বিষয়ে তদারকির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পাঠদান হয় না। কোথাও শিক্ষার্থী কম, কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন পূর্ণসংখ্যায়। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এমপির আকস্মিক পরিদর্শনে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, এমপি মহোদয়ের আকস্মিক পরিদর্শনে বিদ্যালয় দুটির অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠান দুটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। সরকার শিক্ষাখাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। একটি বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী না থাকা হতাশাজনক। শিক্ষার্থী না থাকলে শুধু শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি আরও বলেন, শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। কোথাও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। এ সময় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি পৌরসদরের শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারাকান্দি ১৪০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রোববার সকালে প্রথমে শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। বিদ্যালয়টিতে কাগজে-কলমে মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এদিন মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পান এমপি। এ সময় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই পাননি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের মধ্যে চারজনের উপস্থিতি পেয়েছেন। পরে তিনি তারাকান্দি ১৪০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম দেখতে পান এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদ্যালয়ের পাঠদান ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদ হাসান এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শারফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় ইউএনওকে এসব বিষয়ে তদারকির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পাঠদান হয় না। কোথাও শিক্ষার্থী কম, কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন পূর্ণসংখ্যায়। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এমপির আকস্মিক পরিদর্শনে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, এমপি মহোদয়ের আকস্মিক পরিদর্শনে বিদ্যালয় দুটির অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠান দুটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। সরকার শিক্ষাখাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। একটি বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী না থাকা হতাশাজনক। শিক্ষার্থী না থাকলে শুধু শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি আরও বলেন, শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। কোথাও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন