সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার, ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের ভাই মো. নুরুজ্জামান হোসেন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি জগন্নাথপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন (জগন্নাথপুর থানা মামলা নং-১২, তারিখ: ১৪/০৭/২০২৬ খ্রি.)।
মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের মো. তাজিল মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে পাচারকারী চক্রটি। চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে তিনটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। তবে এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে দুবাইতে অবস্থানরত তার ভাই নুরুজ্জামান অন্য উপায়ে তাকে উদ্ধার করে দুবাই নিয়ে যান। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আসামীরা দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার শিপন আহমদকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া দিরাই উপজেলার ফজলুর রহমান ও রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এদিকে মামলা রুজু হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও আসামীদের গ্রেফতরে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশায় বাদী মো. নুরুজ্জামান হোসেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তরের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর হোসেন আসামিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং তাদের গ্রেফতরে গড়িমসি করছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও এবং পুলিশকে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল আসামি শিপন আহমদ আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিককে ব্যবহার করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই নুর হোসেন জানান, অভিযোগটি তাঁর কাছে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার ১ নম্বর আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি আদালতে মোকাবেলা করবেন। অন্যদিকে ৪ নম্বর আসামী ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান এবং পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
থানা পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় মামলাটি দ্রুত জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় (ডিবি) স্থানান্তর করে মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার, ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের ভাই মো. নুরুজ্জামান হোসেন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি জগন্নাথপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন (জগন্নাথপুর থানা মামলা নং-১২, তারিখ: ১৪/০৭/২০২৬ খ্রি.)।
মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের মো. তাজিল মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে পাচারকারী চক্রটি। চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে তিনটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। তবে এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে দুবাইতে অবস্থানরত তার ভাই নুরুজ্জামান অন্য উপায়ে তাকে উদ্ধার করে দুবাই নিয়ে যান। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আসামীরা দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার শিপন আহমদকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া দিরাই উপজেলার ফজলুর রহমান ও রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এদিকে মামলা রুজু হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও আসামীদের গ্রেফতরে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশায় বাদী মো. নুরুজ্জামান হোসেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তরের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর হোসেন আসামিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং তাদের গ্রেফতরে গড়িমসি করছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও এবং পুলিশকে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার মূল আসামি শিপন আহমদ আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত এবং সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিককে ব্যবহার করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই নুর হোসেন জানান, অভিযোগটি তাঁর কাছে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার ১ নম্বর আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি আদালতে মোকাবেলা করবেন। অন্যদিকে ৪ নম্বর আসামী ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান এবং পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
থানা পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় মামলাটি দ্রুত জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় (ডিবি) স্থানান্তর করে মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন